বত্রিশ.

আর তাই দেখে সব ডাইনিরা তার কাছাকাছি এসে তাকে মাথা নিচু করে কুর্নিশ করে পাক খেয়ে ভোজবাজির মতো গাছপালার মাথা ছাড়িয়ে আকাশের দিকে উড়ে যেতে থাকে।
বুড়ি ডাইনি তার দিকে নরোম চোখে তাকিয়ে মিষ্টি হেসে বলল, ‘আসি বাছা। দোয়া করি যেন দুঃখের মেঘ তোমার মাথার উপর দিয়ে উড়ে যেতে থাকলেও কখনো তোমার উপরে দুঃখের বৃষ্টি বর্ষণ না করে।’
রিয়াজ কিছু বলার আগেই ডাইনি বুড়ি পায়ের উপর পাক দিতে থাকে। অন্য ডাইনিরা কিছুদূর এগিয়ে যাওয়ায় ডাইনি বুড়ির ব্যস্ততা বেড়ে যায়। সে আর না কিছু বলে পাক খেতে খেতে গাছপালার উপরে মিলিয়ে যায়।

যাযাবর ডাইনিরা পাক খেতে খেতে অদৃশ্য হয়ে যেতে থাকলেও রিয়াজ এক দৃষ্টিতে সেদিকে তাকিয়ে থাকে। তার মন অদ্ভুত এক ভালো লাগায় অপার্থিব এক আনন্দে ভরে যায়। ভয়ডর সব কর্পূরের মতো উবে গেছে। মন ভরে গেছে অদ্ভুত এক ভালোলাগায়। ভালোবাসায়। ডাইনি বুড়ির বাড়িয়ে দেয়া ভালোবাসার কারণে কি না কে জানে, এই মুহূর্তে সবাইকে তার ভালোবাসতে ইচ্ছে করছে। এমনকি তার ডাইনি মামীকেও। আরও একটা জিনিস তার মনে হতে থাকে। মনে হয় তার সাহস আগের চেয়ে অনেক গুণে বেড়ে গেছে। ডাইনিদের সাথে দেখা হওয়ার কারণেও হতে পারে। ডাইনিদের এতকাল সে ভয়ঙ্কর জানত। তাদের সাথেই সে যখন স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছে, তখন এর চেয়ে আর ভয়ঙ্কর কী আসতে পারে। এমনও হতে পারে ডাইনি বুড়ির বাড়িয়ে দেয়া ভালোবাসার কারণেও হয়তো সাহস বেড়ে গেছে। (চলবে)