পঁয়তাল্লিশ.
কাকা খুব সহজেই মায়ায় পড়ে যায়। আর সহজে মায়ায় পড়ে বলেই বোধ হয় ওই মায়ার মোহ কাটাতে কাকার বেশি দিন সময় লাগে না। যা সহজলভ্য তার মুল্য কম। কি আবোলতাবোল বকছি। চলো আমরা রওনা দেই।’
‘তোমার কাকা কি আসবে না?’
‘না। কাকা আপাতত কিছুদিন দুনিয়ার সেই মেয়েটির মায়ায় হাবুডুবু খেয়ে সেখানকার কোনো একটা গাছেটাছে বাস করবেন। মরুকগে, যাক কাকা। ওসব ব্যাপার আমি ঠিক ভালো মতো বুঝি না। আর তুমিও বুঝবে না। তার চেয়ে চলো পথ এগুতে থাকি। আচ্ছা, তোমার খিদে পায়নি?’
খিদের কথা শুনে রিয়াজের খিদেটা চাগিয়ে ওঠে। তখন সে বুঝতে পারে এখানে সময়ের সঠিক হিসাব না করতে পারলেও সে যে কাল সন্ধে থেকে না খেয়ে আছে তা বেশ বুঝতে পারছে। সে বলে ওঠে, ‘হ্যাঁ খিদে পেয়েছে। বেশ খিদে পেয়েছে।’
‘তোমার জন্য আমি কিছু খাবার নিয়ে এসেছি। দেখো এগুলো পছন্দ হয় কিনা?’ বলে তিতলী পরী তার সাদা জামার ভেতর থেকে ছ্ট্টো একটা খাবারের পুঁটলি বের করে। রিয়াজ দেখে ওর মধ্যে পেটিস বার্গার আর কেক রয়েছে। এতদিন এগুলো বাবুর জন্য মামী কিনে দিলেও সে কখনো ভাগে পায়নি। আজ সেটা এত কাছে পেয়ে সে পরীর হাত থেকে নিয়ে কোনো রকম ভদ্রতার ধার না ধেরে গোগ্রাসে গিলতে থাকে। খাওয়া শেষ হলে পরী তার হাতে একটা মিনারেল ওটারের ছোট বোতল ধরিয়ে দেয়। সে বোতলে মুখ লাগিয়ে ঢকঢক করে পানি খায়।
খাওয়া টাওয়া শেষে হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে মুখটুখ মুছে তার খেয়াল হয় তিতলী পরীর কথা। নিজের পেট ঠাণ্ডা হয়েছে বলেই সে এবার অন্যের পেটের খোঁজ নিতে থাকে।
(চলবে)