ঊনষাট

পৃথিবীর খাবারের দামও আগুনের খাবারের চেয়ে চড়া। তবে বেশির ভাগই ফলমূল।
তিতলী রিয়াজের জন্য কয়েক পদের বেশ বড় বড় ফল নিলো। কয়েকটা একদম চাল কমুড়া সাইজের। তরমুজের মতো একটা ফলও আছে। প্যাকিং করা কিছু প্যাটিস বার্গারজাতীয় খাবার নিলো। আর নিলো বড় এক ড্রাম পানি। এতগুলো খাবার বহনের জন্য দোকান থেকে একটা ট্রলিও নিয়ে আগের মতোই দাম পরিশোধ করে বেরিয়ে আসে রাস্তায়।
রিয়াজ সত্যি খেয়াল করে রাস্তায় তার বয়সী কোনো ছেলেমেয়ে নেই বলতে গেলে। আর যে দু-একজনকে হঠাৎ দেখা যাচ্ছে তারা যে ছুটিতে আছে তা তাদের ফুর্তিবাজ চেহারা দেখেই বোঝা যায়।
রাস্তায় নেমে কিছুদূর যেতে গাছ থেকে একটা মরা শুকনো পাতা ঝকছকে রাস্তার ওপর পড়ে থাকতে দেখে তিতলী ট্রলি ঠেলে সেখানে যায়। তারপর উবু হয়ে পাতা তুলে নিয়ে অদূরে রাখা ডাস্টবিনে ফেলে। রাজার মেয়ের এহেন কাজ দেখে রিয়োজ বিস্মিত হয়।
সে বিস্মিত কণ্ঠে বলে, ‘ওই সব পাতাটাতা কুড়িয়ে তুমি ফেলতে গেলে কেন? ওগুলো ফেলার জন্য লোক নেই?’
‘না সেরকমভাবে নেই। সরকারি লোক সকাল সন্ধ্যে ঝাট দিয়ে যায়। আর অন্য সময় পথচলা নাগরিকেরা তাদের চলার পথ পরিছন্ন রাখে। এখানে নিজের কাজ নিজেদের করতে হয়। তবে তোমাকে চিন্তিত হতে হবে না।তুমি আমাদের অতিথি। তোমাকে কোনো কাজ করতে হবে না।’
রিয়াজ আত্মবিশ্বাসের সাথে বলে, ‘আমি যে কত কাজ করতে পারি তা তো তুমি জান না। ছোটখাটো সব কাজই প্রায় পারি আমি। কাজ করতে আমার আপত্তি নেই। বিশেষত যেখানে সবাই কাজ করে, সেখানে কাজটাই তো মজা। কাজ না করে চুপচাপ বসে থাকাই তো কষ্ট। ‘সবাই সব কাজ করে বলে খুব একটা বেশি কাজও নেই এখানে।
(শেষ)