একষট্টি.
শুধু ওইটুকু দেখার জন্য যত কষ্টই করি না কেন, কোনো কষ্টই কষ্ট মনে হয় না। তোমাদের এখানে থাকলে ওদের দেখা তো দূরের কথা, কোনো মানুষই দেখতে পাবো না আমি। মানুষ ছাড়া মানুষ বাঁচে কিভাবে?
তিতলী পরী আগুনের পিঠে তারিয়ে তারিয়ে খেতে খেতে বিস্মিত কণ্ঠে বলে তুমি থাকবে আমাদের সাথে আমাদের এখানে?
মা পরী বলে, মানুষেরা পরীদের রাজ্যে এসে কেউ থাকতে চায় না। চলে যেতে চায়। অথচ আমার ধারণা এখানকার মতো সুযোগ সুবিধা নিজের দেশে নেই। তবুও সবাই নিজের দেশে ফিরে যেতে চায় কেন কে জানে? তোর মনে আছে তিতলী গতবার তোর কাকা যে একটা অল্পবয়স্কা মেয়েকে নিয়ে এসেছিল তাই নিয়ে কী বিপত্তি। সেই মেয়ে তো এসেই অথর্বের মতো বসে থাকে। এমনকি কিছু খেতে পর্যন্ত চায়নি। শেষ পর্যন্ত বিরক্ত হয়ে তোর কাকা আবার তাকে ফিরিয়ে দিয়ে এসেছিল।
তিতলী পরী অবাক হয়ে বলে, কই আমি জানি নে তো মা।
ও মনে পড়েছে তখন তো তুই রেসিডেন্সিয়াল ছিলি। এবারকার মতো ছুটিতে ছিলি না। তোর ছুটি আর কয় দিন আছে রে?
এখনো প্রায় এক মাস।
মা পরী এবার রিয়াজের দিকে তাকিয়ে বলল, তাহলে তুমি তিতলী যত দিন ছুটিতে আছে তত দিন অন্তত আমাদের সাথে থাকো। তারপর যদি তোমার ভালো না লাগে তবে চলে যেও।
তিতলী বলল, মা রিয়াজকে কি স্কুলে দেবে?
মা বলল, সে তো অবশ্যই। মানুষের বুদ্ধিশুদ্ধি পরীদের চেয়ে বেশি তো, ও দ্রত সবকিছু শিখে নিতে পারবে। এক মাসেই ও ওদের দেশের ওর বয়সী বাচ্চার সমান শিখে যাবে।
রিয়াজ ইতস্তত করে বলল, শুধু শুধু স্কুলে ভর্তি হয়ে কি হবে? (চলবে)