সাতষট্টি.

স্কুলে বাচ্চাদের সবার আগে সময়ের গুরুত্বই শিক্ষা দেয়া হয়। সময়ের মর্যাদা সব শিক্ষার আদি শিক্ষা।
স্কুলে এসে রিয়াজ অবাক হয়। স্কুল যে এত বিশাল হতে পারে তা তার কল্পনাতেও ছিল না। কী নেই এখানে। খেলার মাঠ থেকে শুরু করে বিনোদনের সব ব্যবস্থাসহ সব রকম শিক্ষা হাতে কলমে দেয়ার সব ব্যবস্থাই আছে। যেন এটা কোনো স্কুল নয়। স্কুলের কমাউন্ডের ভিতরেই গোটা দেশের মতো সবকিছুই আছে।
বাবুকে নিয়ে আসতে রিয়াজকে মাঝে মধ্যে বাবুর স্কুলে যেতে হতো। স্কুল বলতে তখন রিয়াজের কাছে ওটাই ছিল। কিন্তু এখন এখানে এই বিশালাকার স্কুলে তার মনে হচ্ছে ওটা মুরগির খোঁপ ছাড়া কিছুই ছিল না। গ্রিল দেয়া খোঁপের স্কুল ভ্যানগাড়িতে করে বাচ্চাগুলো যেন ঢুকত আরেক খোঁপে। বাচ্চাদের স্কুল অথচ কোনো মাঠ নেই। দরজা জানালা খুলে দিলেও আশপাশের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো বিল্ডিংয়ের কারণে সেখানে আলো বাতাস ঢুকত না কখনো। গুমোট অন্ধকার স্যাঁতসেঁতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করত বাচ্চাদের স্কুলে।
তিতলী পরীদের রাজ্যে বিভিন্ন বয়সের বিভিন্ন মেধার বিভিন্ন স্তরের ছেলেমেয়েদের শিক্ষা দেয়ার জন্য আলাদা আলাদা ইউনিট আছে। তত্ত্বাবধানে কিছু দক্ষ প্রফেসর আছে। দক্ষ সেই সব প্রফেসরের অধীনে আছে বিভিন্ন বিভাগে পারদর্শী কিছু দক্ষ শিক্ষক। তাদের কাজে সাহায্য করার জন্য আছে আরো কিছু শিক্ষক। শুধু শিক্ষকই নয় বাচ্চাদের নানা পেশাগত দিক বোঝানো এবং হাতে কলমে শিক্ষা দেয়ার জন্য আছে সেইসব বিষয়ের পেশাগত শিক্ষক।
এখানে ধনী এবং দরিদ্রের কোনো প্রভেদ নেই। গোটা পরীরাজ্যে ধনী দরিদ্রের কোনো বালাই নেই। (চলবে)