একাশি.
হৃদয়ে সাহসে ভরপুর রিয়াজও অন্ধকারের কাছে কেমন যেন গুটিসুটি মেরে যায়। তিতলী পরী সাথে এলে বোধহয় এরকম ভয় ভয় করত না। একজন কেউ পাশে থাকলে ভয়ডর অনেক কমে যায়। তাই সে মানুষ হোক আর পরীই হোক।
সারা দিনে হেঁটে ক্লান্ত শ্রান্ত রিয়াজের সন্ধ্যের মিষ্টি বাতাসে চোখের পাতা লেগে আসতে থাকে। আর তখনই ডানা ঝাপটানোর ঝটপট আওয়াজে রিয়াজ সজাগ হয়। বড় ডানার অনেক পাখি বোধহয় উড়তে উড়তে এদিকে আসছে।
ভয়ে রিয়াজ বসা অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়ায়। দেখে কালো ডানার কী যেন ভেসে তার মাথার উপর দিয়ে উড়ে যাচ্চে। সে ঘাড় উঁচিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে পাখিগুলোকে দেখতে থাকে।
অনেক কালো পাখির মধ্য থেকে একটা পাখি দল ছাড়া হয়ে সটান রিয়াজের দিকে নেমে আসে।
তাকে আক্রমণ করতে যাচ্ছে ভেবে রিয়াজ ঝট করে মাথা নিচু করে এক হাত আত্মরক্ষার ভঙ্গিমায় মাথার উপরে রেখে বসে পড়ে।
আক্রান্ত হচ্ছে না দেখে সে মাথা তুলে তাকায়। কোথায় কিছু নেই।
হঠাৎ গাছের এক পাশ থেকে কাঁপা কাঁপা জড়ানো স্বর ভেসে আসে ‘তুমি কে হে বাছা? এই জঙ্গলে একা কী করছ?’ তারপর তার চেহারার দিকে তাকিয়ে বলে ‘চেহারাটা কেমন যেন চেনাচেনা মনে হচ্ছে?’
কাঁপা কাঁপা জড়ানো স্বরের অধিকারীকে দেখে রিয়াজ এত খুশি হয় যেন সে তার হারিয়ে যাওয়া মাকে খুঁজে পেয়েছে।
রিয়াজ আহলাদিত কণ্ঠে বলে ওঠে, ‘আমাকে চিনতে পারনি ভালো ডাইনি বুড়ি মা? কোনো এক বনে আমার সাথে এর আগে একবার তোমার দেখা হয়েছিল। তখন তুমি আমার অন্তরে সাহস ও ভালোবাসা বাড়িয়ে দিয়েছিলে। (চলবে)
একাশি.হৃদয়ে সাহসে ভরপুর রিয়াজও অন্ধকারের কাছে কেমন যেন গুটিসুটি মেরে যায়। তিতলী পরী সাথে এলে বোধহয় এরকম ভয় ভয় করত না। একজন কেউ পাশে থাকলে...
