বিরাশি.

ভালো ডাইনি বুড়ি খনখনে স্বরে হেসে মাথা নাড়িয়ে বলে, ‘হে হে মনে পড়েছে। সেজন্য বলি তোমাকে দেখে এত চেনা চেনা লাগছিল কেন? আসলে মানুষের মতো ডাইনিদের তো অতকিছু মনে থাকে না। সবকিছু তাড়াতাড়ি ভুলে যাই আমরা। অবশ্য তাতে একটা লাভও আছে। যত তাড়াতাড়ি ভুলে যাওয়া যাবে তত শান্তিতে থাকতে পারবে।’
রিয়াজ মুখে মিষ্টি হাসি ধরে রেখে বলে, ‘তোমার গলা শুনেই আমি চিনতে পেরেছি। তোমাকে দেখতেও হয়নি।’
‘বেশ। মানুষের চিন্তা আমাদের চলার গতির চেয়ে দ্রুততর।’
‘তোমরা তো অনেক উপর দিকে একসাথে দল বেঁধে উড়ে যাচ্ছিলে। কী মনে করে এখানে নেমে এলে?’
‘তোমাকে দেখে, মানুষের গন্ধ পেয়ে। অবশ্য তখন জানতাম না ওটা তুমি। বিপদগ্রস্ত কোনো মানুষ ভেবেই এগিয়ে এসেছিলাম। আমাদের কাজই বিপদাপন্নকে সাহায্য করা। আর দলের প্রধান হিসাবে আমাকেই কাজটা করতে হয়। ডাইনিদের নীতিমালা আলাদা। সেখানে কঠিন কাজগুলো প্রধানদের করতে হয়। আর সে যদি ব্যর্থ হয় তখন তার নেতৃত্ব কেউ মানে না। আর মানুষ নিয়ে কাজ করা সবসময়ই কঠিন। মানুষ খারাপ হলে সবাইকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।’
রিয়াজ বলে, ‘অত উঁচু থেকে তুমি আমাকে দেখতে পেয়েছ? আমার গন্ধ পেয়েছ?’
ভালো ডাইনি বুড়ি বলে, ‘হু। ডাইনিদের চিন্তা করার শক্তি কম বলে ওটা অন্য অনুভূতিতে পুষিয়ে গেছে। আচ্ছা তুমি এই জঙ্গলে কেন? আবার কোনো পরীর পাল্লায় পড়েছ? সে তোমাকে এখানে বসিয়ে রেখে গেছে?’
(চলবে)