সাতাশি.
এ জোড়াটা সাইজে ছোট। বোধ হয় তার পায়ের মাপের।
ডাইনি বুড়ি জুতো জোড়া তার দিকে বাড়িয়ে বলল, এই নাও। এর বেশি আর কিছু তোমাকে দিতে পারছি না। এই জুতো জোড়া সব সময় পায়ে দিয়ে রাখবে। এ কোনো সাধারণ জুতো নয়। মানুষ উড়তে পারে না। উড়তে পারলে এই জুতো জোড়া পায়ে দিয়ে সে সাধারণ পাখির চেয়ে হাজারগুণ জোরে উড়তে পারত। আমরা সব ডাইনি এই জুতো পায়ে এত বেগে উড়ে বেড়াই। তবে এটা তোমার পায়ে থাকলে তুমি আগের চেয়ে হাজারগুণ জোরে দৌড়াতে পারবে। তখন হয়তো দুষ্ট পরীরা উড়েও তোমাকে ধরতে পারবে না।
রিয়াজ জুতো জোড়া পায়ে দিতে দিতে কৃতজ্ঞ চোখে ডাইনি বুড়ির দিকে তাকায়।
ডাইনি বুড়ি রিয়াজের দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে নেয়। ছেলেটার পরে মায়া পড়ে গেছে। দুষ্ট পরীরাজ্যে ওকে একা ছাড়তে হবে ভেবে ডাইনির চোখ ভিজে ওঠে।
ডাইনি আর কথা না বাড়িয়ে রিয়াজের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে কী করতে হবে কিভাবে যেতে হবে সব বুঝিয়ে পায়ের বুড়ো আঙ্গুলের ওপর তিন পাক খেয়ে অদৃশ্য হয়ে যায়।
রিয়াজ নতুন রুপালি চকচকে জুতো জোড়া পায়ে মচমচিয়ে হেঁটে রুপালি পথ ধরে দুষ্ট পরীরাজ্যের তোরণের দিকে হেঁটে যেতে থাকে।
ডাইনির জুতোয় তার হাঁটার বেগও বেড়ে গেছে।

সত্যি সত্যি রিয়াজ দুষ্ট পরীরাজ্যের তোরণদ্বার খোলা পায়। কোনো প্রহরী নেই। সে গুটি গুটি পায়ে ইতিউতি তাকিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ে।
কফর নাগমের রাস্তাঘাটও ভালো পরীরাজ্যের মতোই। তবে নোংরা। এখানে ওখানে হরেক ময়লা ছড়ানো ছিটানো। (চলবে)