একানব্বই.
চোয়াড়ে পরীটা কিছু বলে ওঠার আগেই দ্বিতীয়জন বলল, হ্যা হ্যা। ওর মা তো আমাদের এখানেই আছে। বন্দী নয় বেশ আরামেই আছে। আর পৃথিবীতে ফিরে যেতে চাইছে না। তুই যেতে চাস তোর মার কাছে?
রিয়াজ অতি আগ্রহে বলে উঠল, হ্যা, হ্যা যেতে চাই। এক্ষুণি যেতে চাই।
চল, তবে আমার সাথে। বলে দ্বিতীয়জন প্রথমজনের হাত থেকে প্রায় একপ্রকার কেড়েই নেয়।
প্রথমজন কী হচ্ছে বুঝতে পেরে খেঁকিয়ে ওঠে। তারপর রিয়াজকে কে নিয়ে যাবে তাই নিয়ে দু’জনের মধ্যে তুমুল তর্ক বেধে যায়। তাই দেখে আরো অনেক বয়স্ক পরীরা জড়ো হয়ে যায় তাদের আশে পাশে।
রিয়াজের হাত ছেড়ে দিয়ে দু’জন যখন তর্কাতর্কিতে মত্ত তখন একজন বলে ওঠে , তোমরা ঝগড়া করো আর ছোড়াটা এই ফাঁকে পালাক। ঝগড়াঝাটি না করে কোনো সমঝোতায় আসতে পারছো না। ছোড়াটা আমাদের এখানে থাকলে তো আমাদেরই লাভ নাকি?
বৃদ্ধের কথা শুনে সবাই নিজেকে সামলে সমঝোতায় আসে। তাদের মধ্যে কি কথা হয় রিয়াজ শুনতে বা বুঝতে পারে না।
সমঝোতা শেষে দ্বিতীয়জনই রিয়াজের দায়িত্ব পায়। যদিও প্রথমজনসহ আরো দু’জন তাদের পিছে পিছে আসে।
সারাদিনে রিয়াজকে নিয়ে তারা এ জায়গা ও জায়গায় ঘোরায়। যদিও এক মুহুর্তের জন্য তারা রিয়াজকে কাছছাড়া করেনি। রিয়াজ যতবার মায়ের কথা জিজ্ঞেস করেছে ততবারই বলেছে এইত আর একটু। সেই আরেকটু এখনও আসেনি। অথচ সন্ধ্যে হতে চলল। তবে এটা ঠিক যে তাকে এরমধ্যে দুইবার মানুষের খাবার খাইয়ে নিয়েছে। নিজেরা খেয়েছে আগুনের খাবার।
(চলবে)
