বিরানব্বই.
সন্ধ্যের পরপর তারা রিয়াজকে নিয়ে গোলাকার চুনীর প্রাসাদে প্রাসাদে আসে।
এবার তাকে নিয়ে আসা পরীটা নিজে থেকে বলে, এখানে আছে তুই যার জন্য এসেছিস।
রিয়াজ ব্যাকুল কণ্ঠে বলল, আমার মা?
তুই নিজেই ভিতরে গিয়ে দেখ কে সে? বলে লোকটা রিয়াজকে বাড়ির বেশ বড়সড় একটা ঘরে রিয়াজকে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে দরজা লাগিয়ে দেয়।

ঘরে অল্প আলো। সেই আলো আঁধারীতে রিয়াজ দেখে বিছানার কাছে গুটি সুটি মেরে কে যেন বসে আছে।
রিয়াজ কাঁপা কাঁপা স্বরে ব্যাকুল কণ্ঠে ডাক দেয় , মা? মাগো?
বিছানার মানুষটা আরো গুটিসুটি মেরে যায়।
রিয়াজ ধীরে ধীরে দরজার কাছ থেকে বিছানার কাছে এগিয়ে যায়। কাছে গিয়ে গুটিসুটি মেরে বসা থাকা মানুষটাকে দেখে হতাশ হয়।
মানুষটা তার মা নয়। তারই মতো একটা ছেলে। বয়স দশ বারো হবে। হয়তো আরো বেশি। কিন্তু দেখাচ্ছে কম।
বিছানায় বসে থাকা ছেলেটা ক্ষীণ কণ্ঠে বলে, তুমি কে? কোনো পরী যে নও বুঝতে পারছি। এখানে এলে কিভাবে? তোমাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে পৃথিবী থেকে ধরে নিয়ে এসেছে।
রিয়াজ ছেলেটার সামনে দাঁড়িয়ে দুদিকে মাথা নেড়ে বলল, উহু। আমি নিজে থেকে এই দুষ্ট পরীরাজ্যে এসেছি।
ছেলেটা বিস্ময়মাখা কণ্ঠে বলল, তুমি জানো এটা দুষ্ট পরীরাজ্য? তার পরেও নিজের ইচ্ছেয় এখানে এসেছ? আশ্চর্য!
আমি আমার মাকে খুঁজতে এসেছি।
এখানে তো আমি ছাড়া আর কোনো মানুষ নেই। এখন অবশ্য যদি তোমাকেও বন্দী করে রাখে, তবে আমরা দুজন। তোমার মা নেই এখানে।
তুমি ঠিক জানো? (চলবে)