অ্যাশানিন্কা দক্ষিণ আমেরিকার একটি দেশজ জাতি। অ্যাশানিন্কারা পেরুভীয় আমাজনের সবচেয়ে বড় দেশজ জনগোষ্ঠী। এরা বাস করে পেরু ও ব্রাজিলের একর রাজ্যে। এদের আবাসভূমি বৃষ্টিবনের (রেইনফরেস্ট) অন্তর্ভুক্ত। এদের পূর্বপুরুষদের বসবাস জুনিন, প্যাসকো, হুয়ানুকো ও উকায়লির (অংশত) জঙ্গলে।
অ্যাশানিন্কারা কথা বলে অ্যাশানিন্কা ভাষায়। এটি একটি দেশজ মাইপুরান ভাষা।
অ্যাশানিন্কা জনগোষ্ঠী জীবিকানির্বাহ করে কৃষিকাজের মাধ্যমে। এরা চিরে ফেলা ও পোড়ানো পদ্ধতিতে জমি পরিষ্কার করে এবং য়ুক্কা, মিষ্টি আলু, শস্য, কলা, কাকাও, ধান, কফি ও ইক্ষু আবাদ করে। শিকার করা ও মাছ ধরাও এদের পেশা। এরা ফল ও শাকসবজি সংগ্রহ করে জঙ্গল থেকে।
নিজেদের পোশাক এরা সাধারণত নিজেরাই তৈরি করে। তুলা থেকে এরা সুতা তৈরি করে এবং সেই সুতায় কাপড় তৈরি করে। নারীরা পোশাক বোনায় পারদর্শী। পোশাকে জ্যামিতিক নকশা ব্যবহার করে। বোনার আগে এরা সুতায় প্রাকৃতিক গাছ থেকে তৈরি রঙ ব্যবহার করে।
অ্যাশানিন্কারা খুবই সাহসী এবং স্বাধীনতাপ্রিয়। তবে এরা ইউরোপীয় আগ্নেয় অস্ত্রধারীদের সাথে পেরে ওঠেনি। ১৮৩৯-১৯১৩ সালে রবারের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। রবার সংগ্রহকারীরা এদের নির্দিষ্ট ছোট এলাকার দিকে ঠেলে দেয়। এ সময় প্রায় ৮০ শতাংশ অ্যাশানিন্কা নিহত হয়।
২০ শতকের ৫০-এর দশকে আশানিন্কাদের এলাকা হ্রাস পায় এবং এদের বসতি ধ্বংস হয়। বাধ্য হয়ে এরা জঙ্গলে চলে যায়। কিছু পেরু থেকে পালিয়ে যায় ব্রাজিলে। একর রাজ্যে বর্তমানে ৬০০ মানুষের এক ছোট গোষ্ঠীর ভূমি অধিকার রয়েছে। ২০শতকের ৮০ ও ৯০-এর দশকের পেরুর অভ্যন্তরীণ সঙ্ঘাতেও এ জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
আজকাল বিভিন্ন সংস্থা এদের উন্নয়নে কাজ করছে।
বর্তমানে অ্যাশানিন্কা জনসংখ্যা প্রায় ৫৫ হাজার।