চুরানব্বই.

ছেলেটা সবজান্তার মতো ভঙ্গিতে বলে, দেখেছ ওটাই আমার থাকার বাকস। মাঝে মধ্যে যখন খাবার দাবার ও অন্যান্য কাজে দরকার হয় তখন বাকসের বাইরে বের হয়ে আসতে দেয়। বাকিটা সময় ওই বাকসেই আমাকে শুয়ে কাটাতে হয়।
অমন করে কেন? রিয়াজের সরল জিজ্ঞাসা।
যাতে আমি বড় না হয়ে যাই। চিরকাল একই অবস্থায় রেখে দিতে চায় শয়তান পরীরা। বড় হয়ে গেলে ওদের অসুবিধা। ওরা আমাকে চিরকিশোর রেখে দিতে চায়। তোমাকেও হয়তো ওভাবে রেখে দেবে। যদিও শরীর না বাড়লে বয়স বেড়ে যাবে তোমার। যেমন আমার বেড়ে গেছে। আমাকে দেখতে এত ছোটখাটো মনে হলেও আমি হিসাব করে দেখেছি আমার বয়স হয়ে গেছে চব্বিশ। যখন এখানে এসেছিলাম তখন ছিল বারো। বোঝো ব্যাপারটা।
রিয়াজ কিছু বলার আগেই বন্ধ দরজা খুলে যায়। দু’জন পুরুষ পরী রিয়াজের জন্য বানানো কফিনের মতো বাকসটা নিয়ে ভেতরে ঢোকে।
তারপর রিয়াজকে জোর করে ধরে বাকসের মধ্যে ভরে ফেলে বাইরে থেকে লক আটকে দেয়।
বাকসের মধ্যে রিয়াজের হাঁসফাঁস লাগে। সে জোরে শ্বাস নিয়ে শব্দ করে বলে, ভাই তুমি কি আছ ঘরের মধ্যে? অন্যপ্রান্ত থেকে ক্ষীণ শব্দে সাড়া আসে, আছি।
তাহলে আমার বাকসটা একটু খুলে দাও না।
ওপ্রান্ত থেকে দীর্ঘশ্বাস পড়ে। আমার অবস্থাও তোমার মতো। ওরা আমাকেও বাকসে ভরে ফেলেছে।
অন্ধকার বাকসে শুয়ে শুয়ে রিয়াজের অনেক কথাই মনে পড়তে থাকে। ডাইনি মামী, অসহায় মামা, দুষ্ট বাবু, মিষ্টি পরী, পরীর মা-কাকা, আনন্দ স্কুল, ভালো ডাইনি বুড়ি, ছায়াসঙ্গীরা।
(চলবে)