পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি উপজাতি বম। এ উপজাতির এক ঐতিহ্যবাহী নাচ চেরলাম (বাঁশনৃত্য)। বম উপজাতি তরুণীরা এই নাচ নেচে থাকেন। তবে তাদের নাচে বাঁশ পরিচালনায় বম তরুণ ও যুবকেরা সাহায্য করেন। বমরা বেশ ভালোই ইংরেজি বলতে পারেন। তাই তারা বাঁশনৃত্যকে ইংরেজিতে ব্যাম্বু ড্যান্স বলতেও ছাড়েন না। বম উপজাতি গ্রামে কেউ মারা গেলে তারা সেই পরিবারের মৃত্যুশোককে ভুলে থাকার জন্য সারা দিন এমনকি সারা রাতও বাঁশনৃত্য পরিবেশন করে থাকেন। বম পাড়ার প্রায় সব তরুণীই বাঁশনৃত্য নাচতে পারেন। ফলে অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ নাচও তাদের কাছে ক্লান্তিকর মনে হয় না। কেননা তারা পালাক্রমে দলবেঁধে এই নাচ নেচে থাকেন।
বাঁশনৃত্য পরিবেশন করা হয় দশ খণ্ড বাঁশ দিয়ে। প্রতি খণ্ড বাঁশ দশ থেকে বারো হাত লম্বা থাকে। বাঁশের টুকরাগুলো সোজা হয়। চার জোড়ায় আটটি বাঁশ একটু দূরে দূরে সমান্তরাল করে মাটির ওপর রাখা হয়। প্রতি জোড়ার বাঁশ একজন করে যুবক দুই হাতে দু’টি করে ধরে চালনা করেন। দু’টি বাঁশ দুই প্রান্তে আড়াআড়িভাবে চার জোড়া বাঁশকে সংযোগ করে থাকে। কাঁচা বা পাকা যেমনই হোক তাতে নাচের অসুবিধে হয় না। তবে পাকা বাঁশে তাল শব্দ ভালো ওঠে। নাচের জন্য আটজন তরুণী ও আটজন তরুণের দরকার হয়।
তরুণীরা নাচেন আর তরুণেরা নাচের তালে তালে মাটিতে বাঁশ চালান। একটি বাঁশের সাথে আর একটি বাঁশ বাজিয়ে অপূর্ব ছন্দে সুর তোলা হয় এবং বাঁশের সেই শব্দের তালে তালে তরুণীরা বাঁশের ফাঁকে ফাঁকে কোমল পা ফেলে অদ্ভুত ভঙ্গিতে নেচে চলেন। তালে কারো ভুল হলেই বিপদ। তখন দু’টি বাঁশের চাপে পায়ে নৃত্যশিল্পীদের চোট লাগে। ঐতিহ্যবাহী পোশাকে বম তরুণীদের প্রদর্শিত বাঁশনৃত্য ‘চেরলাম’ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এখন যেকোনো উপজাতি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এ নৃত্যের পরিবেশনা দেখা যায়।
