পঁচানব্বই.
ছায়াসঙ্গীদের কথা মনে পড়তেই তার মনে পড়ে যায়। ওরা বলেছিল কোনো বিপদে পড়লে ওদের কথা স্মরণ করতে। ওরা-ছায়ারা সর্বত্র যাতায়াত করতে পারে। তাছাড়া তার নিজের ছায়াটাও নাকি ওদের সাথে আছে। ছায়া রাজ্যের সাথে কিভাবে যোগাযোগ করা যায়।
রিয়াজের হঠাৎ মা ছায়ার কথা মনে পড়ে যায়। মা ছায়া বলেছিল মনস্থির করলে তার চোখের দৃষ্টি দিয়েই সে চলে যেতে পারবে ছায়া রাজ্যে। যদিও তার শরীরটা পড়ে থাকবে এখানে।
রিয়াজ বাক্সে শুয়ে শুয়ে চোখ বন্ধ করে একমনে ছায়া রাজ্যের কথা ভাবতে থাকে। ভাবতে ভাবতে তার চোখ বুজে আসে।
চার দিকে অথই সমুদ্র। তার মাঝে সবুজ নারকেল গাছে ঘেরা মনোরম এক সজীব দ্বীপ। সেখানেই ছায়াদের বসবাস। ছায়া রাজ্যে।
ছায়া রাজ্য যেন পৃথিবীর বিকল্প এক রাজ্য। পৃথিবীর সব মৃত মানুষের ছায়াদের বাস এখানে। ছায়া রাজ্য ব্যস্ত রাজ্য। পৃথিবীর শরীরধারী অলস মানুষেরা শরীরহীন হওয়ার পরে যেন তাদের সামগ্রিক ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। শরীরধারী মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যা খাওয়া দাওয়া, সেটারই কোনো সমস্যা নেই এদের। আর নেই বলেই যেন স্বাধীনভাবে যখন খুশি যেখানে খুশি বেরিয়ে বেড়াতে পারে এরা। দিন নেই রাত নেই সময় এখানে অনন্ত।
রিয়াজ দেখতে পায় ছায়ারা সব ব্যস্ত সমস্ত ভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। একদল সমুদ্র পেরিয়ে কোথায় যেন যাচ্ছে আবার আরেক দল ফিরে আসছে। সবাই ব্যস্ত এখানে।
ব্যস্ত ছায়াদের মধ্যে রিয়াজের চোখ পরিচিত ছায়া খুঁজতে থাকে। মা ছায়া এবং কিশোরী মেয়ের ছায়া। ছায়ারা এত দ্রুত এবং ফাঁকফোকর গলিয়ে চলাফেরা করে যে শরীরী মানুষের চোখ দিয়ে ওদের দেখে মুখ চেনা খুব কঠিন। কিন্তু চেনা ছায়া ছাড়া তো সে তার সমস্যার কথা বলতে পারবে না। (চলবে)
