একশ’ ছয়
সেইটাই তো বুঝতে পারছি না। ও আমাকে বলেছিল মনে মনে একান্তভাবে ভাবলেই নাকি কোনো না কোনো ভাল পরীর দেখা মেলে।
তাহলে মনে মনে একান্তভাবেই ভাবো না! এভাবে আর কতক্ষণ বসে থাকব। খিদেও পেয়েছে বেশ।
খিদে রিয়াজেরও পেয়েছিল। কিন্তু খাওয়ার চেয়ে মায়ের চিন্তায় মনটা বেশি অস্থির। আর মায়ের চিন্তা করতে করতে ভালো পরীদের কথাও ভাবছিল সে। ভাবতে ভাবতে এক সময় ঝিমুনির মতো এলো। আর সেই ঝিমুনির মধ্যেও রিয়াজের মনে হলো কেউ একজন যেন তার মাথার উপর গাছের ডালে বসে তাদেরকে চেয়ে চেয়ে দেখছে। পেঁচা টেচা হবে হয়তো! ভাবল রিয়াজ। পাশে তাকিয়ে দেখল দুর্বল ক্লান্ত বেলাল ভাই ভোস ভোস করে ঘুমাচ্ছে।
রিয়াজ মাথার উপরে গাছের ডালের দিকে তাকাল। প্রথমে চোখ ধাঁধানো আলোয় জিনিসটা কী ঠাহর করতে পারল না। তারপর একটু চোখ সয়ে এলে বুঝতে পারল একজন পরী গাছের ডালে বসে তাদের দিকে লক্ষ্য করছে। পরীর আলোয় গাছের ডালটা আলোকিত হয়ে উঠেছে।
পরীটাকে দেখে রিয়াজের কেমন যেন চেনা চেনা মনে হলো। মনে হলো আগেও দেখেছে। পুরুষ পরী। এদেরকে কি জিন বলে? রিয়াজ ঠিক জানে না। চেহারাটা কেমন যেন তিতলী পরীর সাথে মিল আছে। আর তখনই মনে পড়ে গেল এ সেই বিশ্ব প্রেমিক তিতলী পরীর কাকা আসলান দাস্তান না কী যেন নাম বলেছিল। কিন্তু কাকার পিঠের ওপর মানুষের মতো কী দেখা যাচ্ছে। ছোট মানুষের মতো। মনে হয় যেন অজ্ঞান হয়ে লেপটে পড়ে আছে পিঠের ওপর। দু’হাতে অবশ্য শক্ত করে কাকার পাখা ধরে রেখেছে। (চলবে)
