(গত দিনের পর)
এদিকে সিংহের চিৎকার আর শোনে কে? ভীষণ চিৎকার ও গর্জন করতে থাকে সিংহ। সিংহের গর্জনে বনের পশুপাখিরা ভয়ে চুপ হয়ে যায়। কিন্তু কে শোনে কার কথা। ঘোড়া ছুটে চলছে সিংহকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে। হাত-পা বাঁধা নিরুপায় সিংহের তর্জন গর্জনই সার। কোনো কিছু করার আর উপায় রইল না তার।
ছুটতে ছুটতে ঘোড়া হাজির হয় মনিবের বাড়ির আঙ্গিনায়। এসে হেস্রা ধ্বনিতে চিৎকার দিয়ে বলে, ‘এই দেখুন মনিব, আমার গায়ের শক্তি এখনো ক্ষয়ে যায়নি। তুমি কথা দিয়েছিলে, একটি সিংহকে ধরে আনতে পারলে তুমি আশ্রয় দেবে আমাকে। এই দেখো আমি জলজ্যান্ত এক তাগড়া সিংহ ধরে এনেছি। এবার আমাকে আশ্রয় দাও।’
মনিব তার বৃদ্ধ ঘোড়াটির এমন কীর্তি দেখে তো অবাক। তিনি বুঝতে পারলেন, এতদিনের বিশ্বস্ত বৃদ্ধ ভৃত্যের সাথে তিনি কী রূঢ় আচরণটাই না করেছেন। তিনি তার ভুল বুঝতে পেরে বললেন, ‘হ্যাঁ, আমারই ভুল হয়েছে। তোমাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়া ঠিক হয়নি আমার। আমি দুঃখিত, অনুতপ্ত ও মর্মাহত। আজ থেকে তুমি আমৃত্যু আমার বাড়িতেই থাকবে। তোমার খাবারের কোনো অভাব হবে না এখানে। (শেষ)