তিনি অনেক উঁচুমানের লোক। দেশের ‘নোবলম্যান’ তিনি। রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে তার ডাক পড়ে। তাকে মান্য করে চলে সমাজের লোক। দেশ-বিদেশে তার অনেক সুনাম। জ্ঞানের ভাণ্ডার নাকি তার মাথায়। মগজে গিজ গিজ করে জ্ঞান, বুদ্ধি, রীতি-নীতি ও আইন-কানুন। দেশের সংকটকালে তার মাথা থেকেই বড় বড় সমাধান চলে আসে। সেই সব বুদ্ধির খেলায় দেশ রক্ষা পায়, সমাজ রক্ষা পায়। সঙ্কট কেটে যায়। দেশের মানুষ বিপদ-আপদ থেকে বাঁচে। তাই, সবাই তাকে এত তোয়াজ করে চলে।
এই নোবলম্যান একদিন পায়চারি করতে বের হলেন। মেঠো পথ, পথের এক পাশে নদী, আরেক পাশে শস্যক্ষেত। তিনি হাঁটছেন। হেঁটে হেঁটে একটি বনের ধারে চলে এলেন। বনের পাশেই ফাঁকা একটি জায়গা। সেখানে ছোট্ট একটি গাছ। গাছের ডালে একটি নাইটিঙ্গেল পাখি। মনের সুখে গান গাইছে পাখিটি।
নোবলম্যানকে দেখে পাখিটি ভয় পেলো না। সে যেন কাউকে দেখতেই পায়নি। এমনি ভাব করে আপন মনে গান গাইছে।
নাইটিঙ্গেল পাখির গান। কী মিষ্টি, কী মধুর সুর! গানের সুরে নোবলম্যানের দৃষ্টি যায় সেদিকে। তিনি অবাক হন পাখিটিকে দেখে। এমন সুন্দর পাখি, এমন সুমিষ্ট সুর। (চলবে)