একশ’ এগারো
কাকা পরী রিয়াজকে পিঠে তুলে নিয়ে বলল, তোমার মা জীবিত থাকলে আর পৃথিবীতে থাকলে এখন খুঁজে পাওয়া আর সময়ের ব্যাপার মাত্র। তার চেয়ে চলো আমরা এই সময়ে একটু অন্য জায়গা থেকে ঘুরে আসি।
কোন জায়গায়?
তোমার বাড়িতে, মানে যে বাড়িতে তুমি থাকতে।
ওখানে গিয়ে লাভ কী?
গেলেই দেখতে পাবে। চলো।
কিন্তু রিয়াজের মনে হলো ওই বাড়িতে না গেলেই ভালো হতো। রিয়াজ অবশ্য আড়ালেই দাঁড়িয়েছিল। আড়ালে দাঁড়িয়ে দেখেছে বাবুর মায়ের সন্তান হারানোর আহাজারি, কাঁদতে কাঁদতে বিছানায় আছাড় বিছাড় খেয়ে পড়ছে। বাবু হারানোয় এর মধ্যে ওদের অনেক আত্মীয়স্বজন এসে হাজির হয়েছে। ছেলেধরারা বাবুকে কিডন্যাপ করে নিয়ে গেছে এরকমটাই ধারণা করছে তারা। থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। পুলিশের লোকও এসেছে এখানে। পুলিশ দেখে রিয়াজের ভয় ভয় করতে লাগল। পুলিশ যদি জেনে যায় রিয়াজ জানে বাবু কোথায় আছে তাহলে ছেলেধরা সন্দেহে তাকেই পিঠ মোড়া দিয়ে বেঁধে নিয়ে যাবে।
একটা ব্যাপার রিয়াজের অবাক লাগল, বাবু হারিয়ে যাওয়ায় ওরা এরকম ছটফট করছে অথচ সে যে হারিয়ে গিয়েছিল কেউ সামান্যতম খোঁজও নেয়নি বরং চুরি করে কেটে পড়েছে রটিয়ে দিয়ে পার পেয়েছে। নিজের ছেলে বলে এত দরদ অথচ পরের ছেলের বেলা আপদ বিদায় হয়েছে। তার পরেও মামা মামির কান্না দেখে রিয়াজের খারাপ লাগতে লাগল। জানে, বাবু এখন ভালোই আছে। কিন্তু মায়ের কোল ছাড়া কোনো সন্তান কি ভালো থাকে? সে নিজেও তো তার মাকে, মায়ের কোলকে খুঁজে ফিরছে। (চলবে)
