নিমের কথা বলছি। এটি আমাদের অতি পরিচিত একটি বৃক্ষ। এ গাছের পাতা, ফল, শিকড় ও বাকল ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়। পাতা শাক হিসেবে অনেকে খেয়ে থাকে। এর শিকড় থেকে জ্বর ও পাতা থেকে চর্মরোগের ওষুধ তৈরি করা হয়। নিমের তেল ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে। নিমের শুকনো পাতা কাপড় চোপড় ও ঘরের চালের পোকামাকড় নিবারণে অত্যন্ত কার্যকরী।
এটি একটি চিরহরিৎ বৃক্ষ। গাছের কাঠ বাদামি রঙের, সুগন্ধি, টেকসই ও মসৃণ হয়। এর কাঠ দিয়ে ভালোভাবে পালিশ করে ফার্নিচার বানালে বহু দিন পর্যন্ত টেকে। এ গাছের বাকল থেকে আঁশ দিয়ে দড়ি প্রস্তুত করা যায়। গ্রামের অনেককে দড়ি বানাতে দেখা যায়। এ গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করলে দাঁত ভালো থাকে।
এটি দেশের সব জায়গাতেই হয়। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ গাছ দেখা যায়। বিশেষ করে কেউ নতুন বাড়ি বানালে অন্তত একটা নিমগাছ লাগাতে ভুল করে না। কারণ এর আবহাওয়া খুবই স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশসম্মত।
এ গাছের উচ্চতা ২০ থেকে ৪০ ফুট পর্যন্ত হয়। জুন-জুলাই মাসে বীজ সংগ্রহ করে চারা উৎপন্ন করা হয়। কিন্তু এ গাছের বীজ গুদামজাত করা যায় না।
এ গাছের সবটাই উপকারী। পরিবেশের ক্ষতিকারক কোনো উপাদান এ গাছের মধ্যে নেই। এক কথায় এ গাছের পুরোটাই মূল্যবান ও অতি দরকারি। ঢাকা শহরের পাবলিক লাইব্রেরি, রমনা পার্ক আর জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে এটি রয়েছে বেশ-প্রচুর। আসুন আমরা এই উপকারী বৃক্ষ সম্পর্কে আরো বেশি সচেতন হই। আর গাছ লাগানোর সময় নিমগাছ লাগাতে যেন ভুল না হয়। যে বাড়ির আঙিনায় নিমগাছ রয়েছে, সেখানে অসুখ-বিসুখের প্রকোপ অনেক কম।
