(গত দিনের পর)
এক দিকে মায়ের মৃত্যু, অন্য দিকে পিতার যুদ্ধক্ষেত্রে গমন। রাজপুত্র ও রাজকন্যা শূন্য প্রাসাদে একা হয়ে যায়। বয়সেও তারা কিশোর ও কিশোরী। কী করবে, কোথায় যাবে? প্রাসাদে শত্রুর তো অভাব নেই। কিন্তু প্রিন্স আসমান্ড ছিল খুবই বিচক্ষণ, বুদ্ধিমান এবং সচেতন। শত হলেও রাজাপুত্র সে। বয়সে কিশোর হলেও জ্ঞান গরিমায় কমতি নেই তার।
রাজপ্রাসাদের পার্শ্ববর্তী চারুবনে ছিল প্রকাণ্ড দুটি ‘ওকট্রি’ (ওক বৃক্ষ)। অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় প্রিন্স আসমান্ড সেই বৃক্ষ দু’টির বড় প্রশস্ত কাণ্ডের ভিতরে দু’টি ঘর বানিয়ে নেয়। সারা দিন সে চারুবনে ঘুরে বেড়ায়, শিকার করে আর ওক বৃক্ষের কাণ্ডের ভিতরে তার নির্মিত ঘরে গিয়ে বিশ্রাম নেয়। মাঝে মাঝে তার বানানো ঘরে ঘুমিয়ে থাকে সে। তখন তাকে কেউ আর খুঁজে পায় না। পৃথিবী থেকে যেন সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় আসমান্ড। বোনের এমন আবদার শুনে প্রিন্স আসমান্ড বলে, ‘আচ্ছা, আজই না হয় চলো যাই।’ দুই ভাই-বোন দুপুরে চলে যায় চারুবনে। কিন্তু এ যাওয়াই যে তাদের মহাবিপদে পড়া, এমন কথা কে জানত আগে? ওই বনে ছিল ভয়ঙ্কর এক ডাইনি ‘হারিয়া’ ও তার ভাই দানব ‘গুবলিথ’। ডাইনির বনে কোনো মানব সন্তান এসে বাহাদুরি ফলাবে, এমনটা হারিয়ার ভালো লাগেনি।
(চলবে)
