এক.
আমাদের গ্রামের সবচেয়ে ভয়ের জায়গাটাতে এসে থমকে দাঁড়ালাম।
জৈষ্ঠের প্রচণ্ড খরতাপে চার দিকে শুনশান নীরবতা। মাঝে মধ্যে দমকা বাতাস এলেও তাতে শরীর জুড়ায় না, জ্বালা ধরায়। ভরদুপুরে এই পথটা দিয়ে আমাকে যেতে হবে আমি জানতাম, কিন্তু এ রকম ভয় পাবো তা বুঝতে পারিনি।
বাজার থেকে সয়াবিন তেল আনার এই মুহূর্তে তেমন কেউ ছিল না। আমাদের গ্রামের বাড়ি থেকে বাজার প্রায় দুই মাইলের মতো পথ। বাজারে আব্বার ওষুধের দোকান ও চেম্বার। আব্বাকে বলতেই তেল কিনে কাচের বোতল হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন, ‘তাড়াতাড়ি টেনে হেঁটে যা। তেল নিয়ে গেলেই মনে হয় তোর মা রান্না করবে।’
আব্বার ওপর একটু মন খারাপ হলো। তেল নিয়ে গেলে মা রান্না করবে এটা মনে আছে, আর আমি যে এখন এতখানি পথ পাড়ি দিয়ে বাড়ি যাবো আমার ভয় ভয় করবে সে চিন্তা নেই। ক্লাস ফোরে পড়া দশ বছরের ছেলের ওপর আব্বার যেন অনেক আস্থা।
আমি কাচের বোতলের গলায় বাঁধা দড়ি হাতে ঝুলিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বাজার পেরিয়ে এলাম। রোদে গা চিড়বিড় করছে। এবার এখনো বর্ষার দেখা নেই। খাল বিল পুকুর সব শুকিয়ে যেতে শুরু করেছে। পুকুরের কথা মনে হতেই মনে পড়ল ওরকম একটা জলাশয়ের পাশের রাস্তা দিয়েই আমাকে যেতে হবে। ভাগ্য ভালো থাকলে পথে কাউকে পেলে তার পিছ ধরেই জায়গাটা পার হতে পারব। (চলবে)
এক.আমাদের গ্রামের সবচেয়ে ভয়ের জায়গাটাতে এসে থমকে দাঁড়ালাম। জৈষ্ঠের প্রচণ্ড খরতাপে চার দিকে শুনশান নীরবতা। মাঝে মধ্যে দমকা বাতাস এলেও তাতে শরীর জুড়ায় না, জ্বালা...
