তিন.
সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার, জলাশয়ের মধ্যে আমি পা পিছলে স্বাভাবিকভাবে পড়লাম না। আমি উল্টে গিয়ে পড়লাম। যেন দমকা বাতাস আমাকে খড়কুটো তৃণের মতো জলাশয়ের মধ্যে উল্টে ফেলে দিলো। পানি কম থাকায় আমার মাথা সোজা দিয়ে ডিগবাজি খেয়ে জলাশয়ের নিচের কাদার মধ্যে গেঁথে গেল। মাথা একেবারে কাদার মধ্যে গেঁথে যাওয়ার কারণে আমি নিম্নমুখী হয়ে দুই পা আকাশের দিকে তুলে পানির মধ্যে ডুবে থাকলাম। আমার পায়ে থাকা রাবারের স্যান্ডেল খুলে নিস্তরঙ্গ পানিতে ভাসতে থাকল। আমার কচি কচি পা পানির উপরে কিঞ্চিৎ দৃশ্যমান হলেও তা সহজে কারোর চোখে পড়ার কথা নয়।
ভজভজে কাদার মধ্যে মাথা গেঁথে যাওয়ার কারণে আমার নাকেমুখে কাদা ঢুকে গেল। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার, গেঁথে যাওয়ার সময় আমার চোখ খোলা ছিল বলে কাদার মধ্যেই চোখ খোলা রইল। ধীরে ধীরে আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসতে লাগল। চোখের সামনে অন্ধকার দেখতে লাগলাম। আস্তে আস্তে আমার পৃথিবী অন্ধকারে ডুবে যেতে লাগল। বুঝতে পারলাম, আমার অন্তিম সময় উপস্থিত।
চোখ খোলা অবস্থায় কাদার মধ্যে গেঁথে যাওয়ায় নিঃশ্বাস বেরিয়ে যাওয়ার পরেও খোলা চোখে তাকিয়ে আছি। সেই তাকানোর মধ্যেই দেখলাম, আমার সামনে ঠিক কাদার মধ্যে যেন একটা মুখ উদয় হলো। সেই মুখ এক কোমল কিশোরীর মুখ। মুখটাকে চিনতে পারলাম। আমাদের এখানকার খ্রিষ্টানপাড়ার পিযূষ হালদারের মেয়ে পাখির মুখ। পাখি ঠিক আমার মতো বয়সেই এখানকার এই জলার পানিতে একাকী ডুবে মরে যায়। আর তার পর থেকেই গাবগাছে ভূতের আস্তানা এবং এই জলাশয় পরিত্যক্ত হয়ে দাঁড়ায়। (চলবে)