চার.
পাখি আমার ঠিক খেলার সাথি ছিল না; কিন্তু আমাদের সাথে পড়ত বলে আর একই গ্রামের হওয়ায় ওকে এত ভালোভাবে চিনি যে, ওকে কাদার মধ্যে দেখে মোটেই ভয় পেলাম না।
পাখি আমার চোখের সামনে চোখ মেলে হাত-পা নেড়ে কিছু একটা বলতে চাইল। কিন্তু আমি কিছুই শুনতে পারছি না, বুঝতেও পারছি না। তবে ওর অঙ্গভঙ্গি দেখে এটুকু বুঝতে পারছিলাম, ও আমাকে উপরের দিকে ওঠার জন্য বলছে। পানির উপরে উঠতে বলছে। এ-ও বুঝতে পারছিলাম, ওর যদি ক্ষমতা থাকত তা হলে ও নিজেই আমাকে পানি থেকে টেনে উপরের দিকে তুলত। শুধু পাখি যে অশরীরী হয়ে গেছে তা আমি বুঝতে পারছিলাম না।
পাখি আমার একেবারে মুখের সামনে চলে এলো। আমার চোখের সামনে, এমনকি মনে হলো ও যেন আমার মাথার সাথে মাথা ঠেকিয়ে আমাকে উপরে তোলার চেষ্টা করছে। অশরীরী শক্তি দিয়েই আমাকে ঠেলে তোলার চেষ্টা করছে। আর ঠিক তখনই আমার কানে খুব মৃদু আওয়াজের গানের সুর ভেসে এলো। ধীরে ধীরে কথা ক’টিও স্পষ্ট হয়ে উঠল, ‘কী মাছ ধরিছো বড়শি দিয়া, ও বাবুজি, কী মাছ ধরিছো বড়শি...’ ক্যাসেট প্লেয়ারের বাটন অফ করে দেয়ার মতোই থেমে গেল গান।
আমি বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারলাম। মনে হলো কেউ আমার দু’পা ধরে কাদা পানির মধ্য থেকে হিড়হিড় করে উপরের দিকে টেনে তুলল। যে টেনে তুলল তার দু’হাতে প্রচণ্ড শক্তি। আমাকে পাঁজাকোলা করে উপরে টেনে তুলেই লোকটা আমার চোখমুখ থেকে কাদা মাটি ময়লা বের করে ফেলল। আমি বুক ভরে শ্বাস নিলাম।
(চলবে)
চার.পাখি আমার ঠিক খেলার সাথি ছিল না; কিন্তু আমাদের সাথে পড়ত বলে আর একই গ্রামের হওয়ায় ওকে এত ভালোভাবে চিনি যে, ওকে কাদার মধ্যে দেখে...
