পাঁচ.

না, কোনো অশরীরী হাত আমাকে পানি থেকে টেনে তোলেনি। আমাদের গ্রামের ফেরিওয়ালা মজিদ গাজীই আমাকে টেনে তুলেছে। মজিদ গাজী লঞ্চে লঞ্চে ঘুরে ঘুরে বাড়ির তৈরি মিষ্টি খাবার যেমন সন্দেশ, কদমা এসব বিক্রি করে। লঞ্চে খাবার বিক্রি শেষে সে এই দুপুরবেলা বাড়ি ফিরছিল। গাবগাছের কাছে এসে পাশের জলাশয়ের পানিতে একজোড়া গোলাপি রঙের রাবারের স্যান্ডেল ভাসতে দেখে তার সন্দেহ হয়। গান থামিয়ে সে পানিতে ভালোভাবে লক্ষ করে। এ রকম নতুন একজোড়া স্যান্ডেল কেন ভাসবে? স্যান্ডেল জোড়া তুলে নিয়ে গেলে ছোট ভাইটাই কাউকে দিতে পারবে ভাবে। তারপর পানিতে নামতেই ছোট ছোট ঊর্ধ্বমুখী পাজোড়া দেখতে পায়।
মজিদ গাজী পানি থেকে আমার স্যান্ডেল জোড়া তুলে পায়ে পরিয়ে দেয়। ‘হাঁটতে পারবি?’
আমি উপর-নিচ ঘাড় কাত করি।
‘এখানে কী করতে এসেছিলি?’ মজিদ গাজী জিজ্ঞেস করে।
‘বাজার নিয়ে বাড়ি যাচ্ছিলাম।’ আমি কোনোমতে বলি।
‘বাজার কই?’ মজিদ চার দিকে তাকায়। মনে হয় কাচের ভাঙা বোতল ও পড়ে থাকা চকচকে তেলের অবস্থা দেখতে পায়। প্রচণ্ড তাতানো রোদেও তেল সহজে শুকায় না। ব্যাপারটা হয়তো বুঝতে পারে। আমার হাত ধরে। ‘চল, তোকে বাড়িতে দিয়ে আসি।’
মজিদ গাজী ফেরিওয়ালার বিশাল গোলাকার থালি হাতে তুলে নেয়। আমাকে ওদিকে তাকাতে দেখে আবার নামায়। তারপর ওর ভেতর থেকে বিক্রি না হওয়া একটা শুকনো সন্দেশ আমার হাতে দিয়ে বলল, ‘খা, খেতে খেতে চল।’ (চলবে)