আট.

আমি ভেজা শরীরে অসুস্থ ছাগলের বাচ্চাটাকে ধরে বসে আছি। তখনই পাখিকে দেখতে পেলাম। ঠিক আমার একেবারে সামনে। ছাগলের বাচ্চাটার মুখোমুখি উবু হয়ে বসেছে। ওর গায়ে ঘটিহাতা হলুদ রঙের ফ্রক। সেই ফ্রক পানিতে ভিজে চুপচুপ করছে। কিন্তু অবাক ব্যাপার, ও যেখানে বসেছে সেখানে এক ফোঁটা পানিও চুঁইয়ে মাটিতে পড়ছে না।
আমি শব্দ করে মাকে ডাকতে চাইলাম। বলতে চাইলাম, পাখি এসেছে। আমার গলা দিয়ে কোনো শব্দ বের হলো না। পাখি ঠোঁটে আঙুল দিয়ে আমাকে চুপ করে থাকতে ইশারা করল। তারপর আমার মুখোমুখি এসে অসুস্থ নেতিয়ে পড়া ছাগলের বাচ্চাটার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। অবাক ব্যাপার নেতিয়ে পড়া ছাগলের বাচ্চাটা একেবারে মরার মতো চুপ করে পড়ে রইল। পাখি ছাগলের বাচ্চার থেকে চোখ তুলে আমার দিকে তাকাল। কেমন যেন লাল চোখ। অনেকক্ষণ পানিতে ভিজলে চোখ যে রকম লাল হয়ে ওঠে সে রকম লাল। তারপর ছাগলের বাচ্চাটাকে দেখিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে দু’দিকে মাথা নাড়ল। আর সেই মাথা নাড়ার অর্থ আমি বুঝতে পারলাম, চেষ্টা করে লাভ নেই। বাচ্চাটা বাঁচবে না।
আপু দুধের বাটি এনে বিরক্ত স্বরে বলল, ‘হাবার মতো ধরে বসে আছিস। একটু নড়াচড়াও তো করাতে পারিস। দে, আমার কাছে দে।’
আমি ছাগলের বাচ্চাটা আপুর কাছে হস্তান্তর করলাম। আপু একটা দড়ির মতো কাপড়ের পলতে দুধের বাটিতে চুবিয়ে ছাগলের বাচ্চার মুখে দেয়ার চেষ্টা করল। আমার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘মুখটা জোর করে হা করিয়ে রাখ তো। (চলবে)