সতেরো.

সন্ধ্যা নেমে গেলেও যে আবছায়া ভাব দিনের শেষ এবং রাতের শুরুর গোধূলিলগ্নে থাকে সেই আলোয় গোরস্তানের ভেতরের পায়ে হাঁটা পথটা দেখতে দেখতে হাঁটছি। আর হাঁটতে হাঁটতেই মনে হলো আমার সাথে সাথে গুটি গুটি পায়ে আমার মতোই ছোট ছোট পা ফেলে কেউ একজন হাঁটছে।
আমি জানি কে হাঁটছে। তারপরও সাহস করে ডানে বামে তাকালাম। কেউ নেই। পেছনে তাকালাম। কেউ নেই। পায়ের শব্দও থেমে গেছে। ভয় পেয়ে গেলাম।
দৌড়ানো শুরু করলাম। জীবন বাঁচাতে মানুষ যে রকম প্রাণ বাজি রেখে দৌড়ায় সে রকম। দৌড়ের ভেতরেও বুঝতে পারছি আরো একজোড়া পদশব্দ আমার সাথে দৌড়াচ্ছে। দৌড়াচ্ছে।
গোরস্তানের ভাঙা পাঁচিল গলিয়ে বাইরে ওয়াপদার রাস্তায় হাঁপাতে হাঁপাতে বের হতেই একজোড়া শক্ত হাত আমাকে আকড়ে ধরল।
গোরস্তানের মধ্যে যতটুকু না ভয় পেয়েছিলাম তার চেয়ে বেশি ভয়ে আতঙ্কে আমি গোঁ গোঁ করতে লাগলাম।

মূর্তিমান আতঙ্ক আমার গোঙানি দেখে বোধ হয় ভয় পেয়ে গেল। বিশাল হাত দিয়ে আমার মুখ চেপে ধরল। মুখ চেপে ধরলেও চোখ খোলা থাকায় আমি উপরের দিকে তাকিয়ে আবছায়া অন্ধকারে মানুষটাকে দেখতে পেলাম। বুকে ভরসা পেলাম একজন জলজ্যান্ত মানুষকে দেখে, অশরীরী কেউ আমাকে ধরেনি দেখে স্বস্তি পেলাম। আর তখনই মানুষটাকে চিনতে পারলাম।
(চলবে)