আঠারো.

আমাদের গ্রামের ভবঘুরের গোছের খলিল সানা। রহস্যময় মানুষ। কী করে যে সংসার চালায় কেউ জানে না। অথচ বেশ ভাবে থাকে। টাকা-পয়সারও অভাব নেই। গ্রামের লোকেরা বলে, খলিল সানা নাকি কী সব চোরাচালানের সাথে জড়িত। কিন্তু কিসের সাথে তা কেউ স্পষ্ট করে বলে না। গ্রামে পুলিশ এলে আগেই সে পালিয়ে বেড়ায়।
খলিল সানা আমাকে ঝাঁকি দিয়ে ধাতস্ত করে মুখ থেকে হাত সরিয়ে নিলো। তারপর বিরক্ত স্বরে বলল, ‘ভয় পাচ্ছিস কেন। আমি খলিল কাকু। সানা বাড়ির।’
আমি কিছু না বলে ঢোক গিললাম। খলিল সানা যদি এখন আব্বাকে গিয়ে আমার এই গোরস্থানের অ্যাডভেঞ্চারের কথা বলে দেয়! কী জবাব দেবো? আব্বা যা রাগি মানুষ! মেরে আস্ত রাখবে না।
খলিল সানা আবার মুখ খুলল, ‘খিরিষ্টানদের গোরস্থানে তুই কি করছিলি? কে নিয়ে এসেছে তোকে এখানে?’
পাখির খোঁজেই যে এখানে এসেছি তা আর বলতে পারলাম না। ওই কথা কি কাউকে বুঝিয়ে বলা যায়? কিন্তু কিছু একটা তো বলতে হবে। কী বলি? হঠাৎ ছাগল ছানার কথা মনে পড়ে গেল। তবে ঢোঁক গিলে আমতা আমতা করে বললাম, ‘গরু খুঁজতে এসেছিলাম। লাল গাই।’
‘তাই বলে গোরস্থানে? জানিস না এসব ভয়ের জায়গা। চল, তোকে বাড়ি দিয়ে আসি।’
আমি জোর করে হাত ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করে বললাম, ‘আমি একাই বাড়ি যেতে পারব।’
(চলবে)