মহাজাগতিক রশ্মি কী? অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণার স্রোত। বহির্বিশ্ব থেকে এসব কণা এসে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। কণার এই বারিবর্ষণ এক অবিশ্রান্ত প্রক্রিয়া। মহাজাগতিক রশ্মিতে থাকে ৮৯ ভাগ প্রোটন, ৯ ভাগ নিউট্রন এবং ২ ভাগ কার্বন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন ও লোহার ভারী নিউক্লিয়াস। এগুলো হলো প্রাইমারি মহাজাগতিক রশ্মি। আলোর মতো এরা দ্রুতগতিতে ছুটে চলে। প্রাইমারি মহাজাগতিক রশ্মির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন পদার্থের নিউক্লিয়াসের সাথে সংঘর্ষের ফলে নতুন নতুন কণার সৃষ্টি হয়। এই নতুন কণাগুলো সেকেন্ডারি মহাজাগতিক রশ্মি। সেকেন্ডারি রশ্মি যখন দ্রুতগতিতে ছুটে চলে তখন এক কণা অন্য কণার সাথে ধাক্কা লেগে আরো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়। এর ফলে খুব কম সংখ্যক কণা পৃথিবীতে এসে পৌঁছে। এই রশ্মিগুলোতে থাকে পজিট্রন, নিউট্রন, মেসন, নিউট্রিনো ইত্যাদি।
ধারণা করা হয় ছায়াপথের বাইরে নতুন নতুন নক্ষত্রের বিস্ফোরণের ফলে বেশির ভাগ মহাজাগতিক রশ্মির সৃষ্টি হয়। কিছু সৃষ্টি হয় সূর্যে আর কিছু সৃষ্টি হয় ছায়াপথের নানা তারায়। মহাজাগতিক রশ্মির খুব সামান্য বিকিরণে পৃথিবীর তেমন ক্ষতি হয় না। কোটি কোটি বছর ধরে এই রশ্মি পৃথিবীতে আঘাত করে আসছে। কিন্তু পৃথিবীর তেমন কোনো ক্ষতি এখনো করতে পারেনি। তাই মনে করা হয় মহাজাগতিক রশ্মি পৃথিবী পৃষ্ঠের জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে মহাশূন্যে এ রশ্মি ক্ষতিকর প্রভা ফেলতে পারে। কারণ পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে মহাশূন্যে মহাজাগতিক রশ্মির তীব্রতা অনেক অনেক বেশি।