বাইশ.
আমি বাঁশঝাড়ের দিকে আঙুল উঁচিয়ে বললাম, ‘ওদিকে কিছু একটা আছে। বড় কিছু।’
বাঁশঝাড় সম্পর্কিত একটা ভয় আমাদের মধ্যে আছে, এমনকি অসীম সাহসী আপুর মধ্যেও আছে। কারণ গল্পটা আমি আপুর মুখেই শুনেছি। অশি^নীকামার নামে এক দেশত্যাগী লোকের কাছ থেকে আব্বা এই বিশাল বেড়বাড়ি কিনেছিলেন।
কেনার পর থেকে নানারকম ভৌতিক শব্দ হতে থাকে। লোকে বলাবলি করত, জিন ভূত চলাচল করে। অনেকেই নাকি বাগানের এক পাশ থেকে আরেক পাশে আগুনের গোলা ছুটে যেতে দেখেছে। এমনকি মাও স্বীকার করে মাও দেখেছে। কয়েকজন মৌলবীগোছের লোক আব্বাকে পরামর্শ দিল বাড়ি বন্ধন দেওয়ার জন্য। সবার পরামর্শে আব্বু বেশ কিছু টাকা খরচা করে অত্র অঞ্চলের জিনসাধক বাড়ি বন্ধনকারী কেরামত মাওলার শরণাপন্ন হলেন। কেরামত মাওলা এসে বাড়ির চারপাশ ঘুরেটুরে ডাক্তার রোগীর রোগ শনাক্তকরণের মতো করে বলল, ‘বহু প্রাচীন আমলের তিনটে জিন এই বাড়িটাতে আছে। আর ওদের সাথে দেখা করতে আরো কিছু জিন এর উপর দিয়ে যাতায়াত করে। ভয়ের কিছু নেই। বাড়ির জিন তিনটেকে বোতলবন্দী করতে পারলে অন্য জিনদের আনাগোনা কমে যাবে। জিন না থাকলে জিনের টানে জিন আসবে না।’ যে কথা সেই কাজ। বাড়ি বন্ধন হলো। জিনসাধক সবুজ রঙের তিনটে কাচের বোতলে কিছু ধোঁয়া বন্দী করে বাড়ির বাঁশবাগানে মাটির নিচে পুতে দিলেন। জিন বোতল বন্দী হয়ে রইল বাঁশবাগানে।
মা কান পেতে একটু খেয়াল করে শব্দটা শুনল। (চলবে)