তেইশ.

তখন আমিও শব্দটা ভালোভাবে শুনতে পেলাম। কিছু একটা চরে বেড়াচ্ছে। গরু মোষের মতো। আর তখনই বুঝতে পারলাম পাখি ওদিকে আমাকে কী দেখিয়েছিল। আমি বাড়ি আসার আগে যে লাল গাইকে ও হারিয়ে রেখেছিল, সেটাই আবার বাঁশঝাড়ে ফিরিয়ে দিয়ে গেছে। এ পাখির কাজ।
আমি উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বললাম, ‘মা, বাঁশঝাড়ের মধ্যে লাল গাই চরে বেড়াচ্ছে।’
মাও আমার সাথে একমত হলো, ‘আমারও তাই মনে হয়। চল, দেখে আসি।’
মা সাথে থাকলে আমি তেমন ভয় পাই না, তাই বাঁশঝাড়ে জিন পোতা থাকলেও। আমাদের বাঁশঝাড় পর্যন্ত যাওয়া লাগল না। তার আগেই লাল গাই বাঁশঝাড় থেকে বেরিয়ে এলো। আমি হ্যারিকেন হাতে লাল গাইয়ের পেছন পেছন এগিয়ে এলাম।
মা গরুটাকে গোয়ালে বেঁধে রাখতে রাখতে আমাকে বলল, ‘হ্যারিকেনটা হাতে নিয়ে বাইরে একটু দেখে আয় তো। তোর আপু কোন দিকে ঘুরে মরছে। আশপাশে একটু খুঁজে আয়।’
আমি বিরক্তি নিয়ে বললাম, ‘গরু খোঁজা শেষ, এখন মানুষ খোঁজো। আজ খোঁজাখুজিই চলুক।’
হ্যারিকেন হাতেই বাইরে বেরিয়ে এলাম। চারিদিকে অন্ধকার হলেও আশপাশে বাড়ি ঘরের আলোর জন্য রাস্তা ততটা অন্ধকার লাগছে না। লোক চলাচল আছে। আমাদের বাড়ি থেকে একটু এগুলেও কয়েকটা দোকান চোখে পড়ে। স্থানীয় লোকজনের চাল ডাল আলুর মুদির দোকান। তার পাশে আছে হিন্দুবাড়ির দর্জিঘর। ওই বাড়ির ছোটছেলে সুশান্ত বাড়ির সামনের দিকে রাস্তার লাগোয়া দর্জির দোকান দিয়েছে।
(চলবে)