শত বছর আগের কথা। ফ্রান্সের প্যারিস শহরের তিন বছরের শিশু লুইস ব্রেইলি একদিন তার বাবার দোকানে বসে চামড়া কাটছিল। সে সময় চাকুটা ফসকে তার চোখে লাগে। এর পর থেকে সে দৃষ্টি হারায়। ব্রেইলির লেখাপড়ার আগ্রহ ছিল প্রবল। ১৮১৯ সালে ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ব্লাইন্ড চিলড্রেন’ নামে এক প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়। সেখানে পড়ার সময় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য মুদ্রাক্ষর তৈরি করে সে ১৮২৯ সালে। ব্রেইলির বর্ণপদ্ধতি স্বীকৃতি পায় এবং এ পদ্ধতির নাম দেয়া হয় ব্রেইলি পদ্ধতি, যা এখন বিশ্বস্বীকৃত ও প্রচলিত। এ পদ্ধতির ওপর তার লেখা ১৮২৯ ও ১৮৩৭ সালে প্রকাশ হয়।
ব্রেইলি বর্ণপদ্ধতিতে আছে একটি ৬ বিন্দুর কুঠরি। বাম দিকের বিন্দুগুলো উপর থেকে নিচের দিকে ১, ২, ৩ এবং ডান দিকের বিন্দুগুলো উপর থেকে নিচের দিকে ৪, ৬, ৭- এভাবে সংখ্যায় সাজানো। বর্ণমালার প্রথম ১০টি অক্ষর তৈরি হয় ১, ২, ৩, ৪, ৫ সংখ্যা দিয়ে। প্রথম সারির চিহ্ন বা সংখ্যার সাথে ৩ নম্বর বিন্দু যোগ করে ক থেকে ঞ পর্যন্ত অক্ষরগুলো তৈরি করা হয়। বাকি অক্ষরগুলোর পাঁচটি সচরাচর ব্যবহার করা হয় সাধারণ শব্দ তৈরি করার জন্য। আর এ জন্য দ্বিতীয় কলামের সংখ্যার সাথে ৬ নম্বর বিন্দু যুক্ত করতে হয়। ৬-কে প্রথম দশটি অক্ষরের সাথে যোগ করে নয়টি সাধারণ বর্ণ সমন্বয় করা হয়। এই পদ্ধতিতে আরো অনেক জিনিস দেখানো হয়।
ব্রেইলি পদ্ধতিতে আছে ৬৩টি বর্ণ সূচক চিহ্নের এক সঙ্কেতলিপি। এই চিহ্নগুলোর আছে ২৬টি ইংরেজি বর্ণ বা অক্ষর। এর সাথে আছে কিছু অন্য শব্দ। এই চিহ্নগুলো কাগজের ওপর উঁচু করে সারিভাবে বসানো হয়। তারপর কাগজের ওপর আলতো করে হাত বুলিয়ে শব্দ ও অক্ষর পড়া হয়।
ব্রেইলি পদ্ধতিটি ব্রেইলির মারা যাওয়ার (১৮৫২) দু’বছর পর সরকারিভাবে স্বীকৃতি লাভ করে। বর্তমানে ব্রেইলি মুদ্রাক্ষর মেশিনের সাহায্যে তৈরি করা হয়। এই মেশিন ১৮৯২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম তৈরি হয়।