তেইশ.
দর্জির দোকানের সামনে আসতেই সুশান্তদা ডাক দিলো, ‘তোরা সব কি খুঁজতে যাস? তোর দিদিকেও দেখলাম যেতে।’
সুশান্তদাকে আমার বেশ লাগে। আমুদে ধরনের গায়ে পড়া গোছের মানুষ। মা আপু সবাই সুশান্তদাকে পছন্দ করে। বাড়ির সব কাপড়চোপড় ওখানেই বানাতে দেয়া হয়।
আমি সুশান্তদার দিকে তাকিয়ে বললাম, ‘গরু খুঁজতে গিয়েছিল। গরু বাড়ি এসেছে।’
‘ও তাই বল। দেখি, তোর দিদি সামনে দিয়ে গেলে ডেকে বলে দেব। তুই এখন কই যাস?’
‘দিদিকে খুঁজতে।’
‘আন্দাজে কই খুঁজবি? তার চেয়ে এখানে এসে বোস। দিদি সামনে দিয়ে গেলে একসাথে যাস।’ সুশান্তদা একটা টুল দেখিয়ে দিলো।
আমিও দেখলাম প্রস্তাবটা মন্দ না। আন্দাজে আপুকে কই খুঁজব? ওর চেয়ে বসে থাকি। আপু যেদিকেই যাক, এদিক দিয়েই তো আসবে।
বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো না। আপু আর মিনুখালাকে সামনে দিয়ে যেতে দেখলাম। সবচেয়ে আশ্চর্য লাগল, আমাদের কোনোরকম ডাকাডাকি ছাড়াই আপু সুশান্তদার দোকানের সামনে এসে দোকানের দিকে তাকাল। আমাকে ওখানে দেখে ভূত দেখার মতো চমকে উঠল। ‘তুই এখানে বসে কি করিস?’
‘তোমাকে খুঁজতে এসেছি।’
‘গরু খোঁজা বাদ দিয়ে আমাকে খুঁজছিস।’
‘গরু পাওয়া গেছে। বাঁশঝাড়ে ছিল।’
আপু যেন একটু হাঁফ ছাড়ল। ‘বাবাহ, ছাপড়া চান্নিটান্নি দিয়ে কই কই খুঁজে এলাম। আর গরু এদিকে বাড়িতে এসে বসে আছে। একেই বলে গরু খোঁজা। ওঠ তো, একটু বসে জিরিয়ে নেই।’ আপু আমাকে উঠতে বলল। (চলবে)
