চাও হ্রদের কথা বলছি। জানো, এটি আনহুই প্রদেশের সবচেয়ে বড় এবং চীনের পাঁচটি মিঠা পানির বড় হ্রদের একটি। আয়তন প্রায় ৭৬০ বর্গকিলোমিটার। লাওশান দ্বীপের অবস্থান এ হ্রদের মাঝে। ক্যাচমেন্ট এলাকার আয়তন প্রায় ১৪ হাজার বর্গকিলোমিটার। যে পরিমাণ জায়গার বৃষ্টির পানি হ্রদে এসে নামতে পারে সে পরিমাণ জায়গাকে বলে ক্যাচমেন্ট।
চাওকে ঘিরে বাস করে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ। এদের জলসেচ, মাছধরা আর যাতায়াতে হ্রদটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বর্জ্য আর পলিতে হ্রদের পানি কিছুটা দূষিত হয়েছে। চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে পাল্লা দিয়ে যেন হ্রদটির পানি দূষিত হচ্ছে। তবে চীন সরকার পানি দূষণ কমাতে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
চাওয়ের চারধারে অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। এগুলোর মধ্যে মাউন্ট লাউ, ঝংমিয়াও মন্দির,তংয়িয়াং নদী, ইনপিং পর্বত এবং অমর গুহা (ইমমরটাল কেভ) উল্লেখযোগ্য।
সোনালি মাছ, চিংড়ি ও কাঁকড়ার জন্য চাওয়ের খ্যাতি আছে। এ তিনটিকে বলা হয় হ্রদটির সম্পদ। লোককাহিনীতে আছে চাও হ্রদের জায়গায় একটি সমৃদ্ধ নগরী ছিল, যার নাম চাওঝৌ। এ নগরের মানুষ পাপ কাজে লিপ্ত থাকায় বিধাতার অভিশাপে পড়ে। তিনি বন্যায় ভাসিয়ে দিয়ে নগরটি ধ্বংসের আদেশ দেন। সাদা ড্রাগনকে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর আদেশ দেয়া হয়। ড্রাগনটি একজন ভালো মানুষ এবং একজন বৃদ্ধাকে খুঁজে পেয়েছিল। এ বৃদ্ধার নাম ছিল জিয়াও। চাওঝৌ ধ্বংসের পর শুধু সেই বৃদ্ধা এবং তার এক কন্যা বেঁচে যায়। এ দু’জনই হলো হ্রদে জেগে থাকা দু’টি দ্বীপ। এ লোককাহিনীতে হ্রদ এলাকার ভৌগোলিক ইতিহাস প্রতিফলিত হয়েছে। বিভিন্ন সময় এখানে ভৌগোলিক পরিবর্তন এসেছে। ভূমিকম্প এর একটি কারণ। ১৯৭৬ সালে চাওয়ের দক্ষিণাংশে বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়েছিল।
