চব্বিশ.
কিন্তু সুশান্তদা কাউন্টারের ওপার থেকে ব্যস্ত হয়ে বলল, ‘ওকে উঠতে হবে না। তোমার জন্য স্পেশাল টুল দিচ্ছি।’ বলে সুশান্তদা ভেতর থেকে একটা উঁচু কাঠের টুল এপাশে বের করে দিলো।
আপু উঁচু টুলে বসতে বসতে বলল, ‘মিনুখালা, তুমি বাড়িতে চলে যাও। এই হ্যারিকেন নিয়ে যাও। মাকে বলো, একটু পরে আসছি। ও থাক আমার সাথে। বলো, সুশান্তদার দোকানে আছি।’
মিনুখালা ওদের হ্যারিকেনটা নিয়ে চলে গেল। আপু অহেতুক এখানে বসে আছে। সুশান্তদা কি সব জামার মাপ উঁচু করে করে আপুকে দেখাচ্ছে, আর আপু হেসে গড়াগড়ি খাচ্ছে। সুশান্তদা কি একটা বলতে গিয়ে আধখান করে বলল, ‘সবার সাইজ আমি জানি। তোমারটাও।’
আপু চোখ মটকাল। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘চল, যাই, এখানে আর থাকতে দেবে না।’
সুশান্তদা অপরাধীর মতো মুখ করে বলল, ‘আশ্চর্য, আমি কি করলাম! আমি তো আমার হাতের কাজ করে যাচ্ছি।’
আপুর কথামতো আমি টুল থেকে নেমে মাথা নিচু করে হ্যারিকেনের জোরটা বাড়িয়ে নিতে লাগলাম। আর আমার কাছে তখন মনে হলো, আপুর আর সুশান্তদার মধ্যে কোনো একটা শলাপরামর্শ হয়ে গেল।
সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি রণাঙ্গন নিশ্চুপ। সবকিছু শান্ত। গত দিনের ঝড়ঝাপটার বিন্দুমাত্র আভাস সকালের সুন্দর আবহাওয়ার মধ্যে নেই। আব্বা চেম্বারে যাওয়ার আগে বাড়ির উঠোন লাগোয়া ক্ষেতে সবজির পরিচর্যা করেন। তাই করছেন। মা সকালের রান্নাবান্নার দিকটা নিয়ে ব্যস্ত। মিনুখালা গরুছাগল হাসমুরগির দেখভাল করছে। (চলবে)
