আঠাশ.
সে এক ভয়াবহ ব্যাপার! উন্মাদিনীর মতো হয়ে গেছে সখিনা। শঙ্খিনীর মতো খোলা চুলে এলোমেলো কাপড়চোপড়ে পুরুষালী গলায় অশ্লীল গালি দিয়ে চলেছে সখিনা। দুতিনজন মহিলা মিলেও তাকে শান্ত করে রাখতে পারছে না। গালাগালির তোড়ে পুরুষেরা কানে হাতচাপা দিয়ে একে একে কেটে পড়েছে। মহিলারা আর বাচ্চারা দূর থেকে ভয়ে ভয়ে মজা দেখছে। ভয়ের মধ্যেও এক ধরনের আনন্দ আছে!
আমার কেন জানি মনে হতে লাগল, সখিনাবুর ঘাড়ে যে জিন লেগেছে সেটা আমাদেরই জিন। মানে আমাদের বাড়িতে যে জিনটা পোতা ছিল। আজ দুপুরে ছাড়া পেয়েই সন্ধ্যার মধ্যে আশ্রয় খুঁজে নিয়েছে। একটাতেই এই অবস্থা! তিনটে ছাড়া পেলে যে কি হতো!
সখিনাবুর আব্বার ভারিক্কি গলা শোনা গেল। ‘ওকে আজ রাতটা বেঁধে রাখ। জিনসাধককে খবর দিয়েছি। কাল বিকালে এসে জিন তাড়াবে।’
এই কথা শোনার পরে সখিনাবুর জ্বালা যেন আরো বেড়ে গেল। নিজের আব্বাকে মুখখারাপ করে দিয়ে পুরুষালী গলায় গালি দিলো।
সখিনার আব্বা আমাদের সবার দিকে তাকিয়ে ধমক দিলেন, ‘মুখখারাপ শুনতে খুব ভালো লাগে তাই না? যাও সবাই নিজের বাড়ি যাও।’
বাড়িতে ফিরলেও অদ্ভুত এক উত্তেজনা অনুভব করতে লাগলাম। আগামীকাল সখিনাবুর জিন তাড়াবে। যেভাবে হোক আমাকে জিন তাড়ানো দেখতে হবে। যেভাবেই হোক। তাই দরকার হলে পাখির সাহায্য নিয়েও!
আমি পাখির সাহায্যের জন্য কী করা যায় তাই ভাবতে লাগলাম। (চলবে)
