ত্রিশ.
আছরের নামাজ শেষে শুভ্র শ্মশ্রু মণ্ডিত দীর্ঘদেহী বিশালকায় জিনসাধক চলে এলো। জিনসাধক নিজেই যেন একটা দর্শনীয় বস্তু। তেমনি দর্শনীয় তার কাঁধের কাবুলিওয়ালা সাদা ঝোলা। জিনসাধক ঢুকেই কোনো দিক না তাকিয়ে সখিনাবুদের বেড়বাড়ি পরিদর্শনে বের হলেন। আমরা ছোটরা বড়রা হ্যামিলিয়নের বাঁশিওয়ালার মতো তার পিছু নিলাম। গ্রাম দেশে একটু অবস্থাসম্পন্ন মানুষের বেশ একটু বড় গোছের বাগানবাড়ি থাকে। সখিনাবুর আব্বা ধানচালের আড়তদার। অবস্থাসম্পন্নই বলা চলে। আমাদের বেড়ের সাথে লাগোয়া ওদের বেড়।
জিনসাধক কিছু দূর এগিয়ে একটা শিশুচটকা গাছের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। আমরা সবাই দূরত্ব রেখে দাঁড়িয়ে পড়লাম। তিনি হাত তুলে আমাদের আর সামনের দিকে না এগুনোর নির্দেশ দিলেন। সবাই ওখানে দাঁড়িয়ে জটলা করতে লাগল।
বাগান ঘুরে এসে তিনি কাদামাটির লেপাপোছা বারান্দায় উঠলেন। তারপর পরিচ্ছন্ন বারান্দায় ঝোলা থেকে জাফরানি রঙ বের করে আধা মানুষ সমান বিশালাকৃতির বৃত্ত আকলেন। সেই বৃত্তের মধ্যে পঞ্চভুজ, ষড়ভুজ, অষ্টভুজ কি জানি সব আঁকলেন। তারপর সেই ভুজের মধ্যে জাফরানি রঙ দিয়ে আরবি অক্ষরের মতোই দেখতে কতকটা উল্টো আরবি অক্ষরের মতো সংখ্যার মতো কি সব হিসেবপত্র লিখলেন। ডায়রির মতো একটা বাঁধানো খাতা খুলে হিসাব মেলালেন। পুরো বৃত্তটাই আঁকিবুকিতে ভরে উঠে সে অনেকখানি সময় চলে গেল। বৃত্তের মাঝে ধুপ ধুনো জ্বালিয়ে চারিদিকে ধোঁয়ায় ভরে ফেললেন।
(চলবে)
