জানো, সাগর হলো এক অপূর্ব প্রাকৃতিক শিল্প। সাগরের রঙ, রূপ, বৈচিত্র্য ও তার সৌন্দর্যকে পুঁজি করে তাই যুগে যুগে অনেক শিল্পী নানা রকমের ছবি এঁকেছেন। তাঁদের সেসব ছবির অনেকগুলোই বিশ্বখ্যাত হয়ে বিভিন্ন আর্ট মিউজিয়ামে শোভা পাচ্ছে। ল্যুভ থেকে আঁরস আর্ট মিউজিয়াম- কোথায় নেই দু-চারটা সাগরভিত্তিক চিত্রকলা? ডেনমার্কের আঁরস আর্ট মিউজিয়ামে ডেনিশ পেইন্টার পি এস ক্রয়ার, মাইকেল আঙ্কার ও আন্না আঙ্কার অনেক বিখ্যাত ছবিই এঁকেছেন সমুদ্রকে বিষয় করে। পি এস ক্রোয়েরের পেইন্টিং
বোনফায়ার অন দ্য স্কেইন বিচ, পেইন্ট দ্য লাইট, ইন এ ব্লু কেপ ইত্যাদি সাগরের পটভূমিতে আঁকা কিছু উল্লেখযোগ্য শিল্পকর্ম। পেডের সেভেরিনের ফিশিং বোট লিভিং আরেকটি বিখ্যাত ছবি। ডেনমার্কের সমুদ্রসংলগ্ন স্কেইনে সূর্যাস্তের পর জেলেরা মাছ ধরা নৌকা নিয়ে সাগরের উদ্দেশে তীর ছেড়ে যাচ্ছে। ছোট্ট শিশুসন্তান ও তাদের স্ত্রীরা সৈকতে দাঁড়িয়ে তাদের মঙ্গল কামনা করে বিদায় জানাচ্ছেন। অদ্ভূত, অপূর্ব সে রঙের বিন্যাস। বালির সৈকতে শিল্পীর তুলি ততটা প্রখরতা পায়নি, যতটা পেয়েছে জেলেদের স্ত্রীদের মুখের মধ্যে। ছবির ফোকাল পয়েন্টই হলো এটি। অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়ে বিদায় জানানোর ব্যাকুল অনুভূতি। তাদের স্ত্রীরা এমনকি জেলেরাও জানে না, মাছ ধরে কাল সকালে তারা ফিরবে কি না। ডেনমার্কে পুরনো দিনের ছবিগুলোর মধ্যে একটা সাধারণ মিল খুঁজে পাওয়া যায়, তা হলো- সমুদ্র ও প্রেম। ফিশিং বোট, হান্টিং, সামার ডেজ অ্যাট সি ইত্যাদি চিত্রগুলোর মধ্যে সাগরের উপস্থিতি প্রবল। আলোর প্রখরতা, প্রবল বাতাস, দ্যুতি ছড়ানো বালি, নীল-সাদা ঢেউ আর সমুদ্রজীবী মানুষরাই এসব ছবির উপজীব্য বিষয়। ১৮৫০-৫৫ সালের মধ্যে ফিজ হুগ লেনের আঁকা বোস্টন হার্বারের ছবিটিরও কোনো তুলনা হয় না। ওটি এখন আছে মিউজিয়াম অব ফাইন আর্টস, বোস্টনে। বিশ্বের নামীদামি শিল্পীদের আঁকা সাগরের নামকরা ছবিগুলোর মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য ছবি হলো- থ্রি মাস্টার্স ইন রাফ সি (১৮৫৬), দ্য সি (১৯১১), মরিস গ্রেভসের সি, ফিস অ্যান্ড কনস্টিলেশন (১৯৪৩), উইনসলো হোমারের দ্য লাইফ লাইন (১৮৮৪) ইত্যাদি।
