একত্রিশ.
এই সময়ে দুজন মহিলা আলথালু এলোকেশী সখিনাবুকে এনে বৃত্তের মাঝে বসিয়ে দিলো। জিনসাধক মন্ত্র পড়ে ধূপ ধুনোর আগুনের মধ্যে এক চিমটি করে শুকনো মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেন, আর হাতে থাকা ঝাড়– দিয়ে বৃত্তের মাঝে আঘাত করেন আর সখিনাবু গালাগালির তুবড়ি তুলে কেঁপে কেঁপে ওঠে। জিনসাধক তত জোরে আঘাত করতে থাকেন।
আমাদের চোখ মুখ ঝাঁঝালো ধোঁয়ায় ভরে উঠতে থাকলে আমরা পিছিয়ে নিরাপদ দূরত্বে সরতে থাকি। জিনসাধকের আঘাতে সখিনার ভেতরে থাকা পুরুষালি গলার জিন আস্তে আস্তে নিস্তেজ হতে হতে জিনসাধকের সব শর্তে রাজি হতে থাকে, ‘পানি ভরতি সাতটা পিতলের কলসি নিয়ে পঞ্চাশ পা পার হতে হবে।’
‘একটু কমান ওস্তাদ।’ পুরুষালি গলায় কাকুতি ঝরে পড়ে।
‘ঠিক আছে পাঁচ কলসি পানি আর একুশ পা। এর কম হবে না।’
‘আমি চলে যাবো ওস্তাদ।’ পুরুষালি গলায় আবার কাকুতি।
‘তুই চিরতরে চলে যাবি তার নমুনা দেখা। শিশুচটকা গাছের উত্তরের দিকের ভারী ডালটা ভেঙে দিয়ে যাবি। পারবি না?’
সখিনাবু রাজি হয়। আমরা জিনসাধকের কেরামতি দেখার জন্য উৎসুক হয়ে থাকি। অন্দরমহলের মহিলারা সখিনাবুকে উঠোনে নামিয়ে এনেছে। পাঁচ পাঁচটি পিতলের কলসি পানিতে ভরে নিয়ে এসেছে। একুশ পা গুনে গুনে দাগ টেনে দিয়েছে জিনসাধক। সখিনাবুকে দাগের মাথায় দাঁড় করানো হয়। তারপর তার দুই হাতের তালুতে দুই দুই চার কলস, মাথায় একটা কলস বসিয়ে দেয়া হয়। (চলবে)
