হুয়াইশেং মসজিদের কথা বলছি। এটি বিশ্বের প্রাচীনতম মসজিদগুলোর একটি, যা প্রতিষ্ঠিত হয় প্রায় এক হাজার তিন শ’ পঁচানব্বই বছর আগে (৬২৭ সাল)। এ সময় চীনে চলছিল তাং রাজবংশের রাজত্ব। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর স্মরণে মসজিদটির নামকরণ করা হয় হুয়াইশেং, যার মানে জ্ঞানী লোকটিকে স্মরণ।
মসজিদের অবস্থান গুয়াংঝৌতে। এটি ওই নগরের প্রধান মসজিদ। স্থপতি সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রা: নামে একজন সাহাবি। ইতিহাসের বিভিন্ন বাঁকে মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করা হয়। তবে এর স্থাপত্যিক ঘরানায় চীনা প্রভাব থেকেছে সব সময়। হুয়াইশেং মসজিদ চীনের চারটি সুপরিচিত মসজিদের একটি। অপর তিনটি হচ্ছে- ইয়াংঝৌ ক্র্যান মসজিদ, কুয়ানঝৌ কিলিন মসজিদ ও হ্যাংঝৌ ফিনিক্স মসজিদ। হুয়াইশেং মসজিদের আয়তন প্রায় দুই হাজার ৯৬৬ বর্গমিটার। ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভবন নিয়ে মসজিদটি গঠিত। এগুলো হচ্ছে ইমাম হল, ওয়াংয়ু চিলেকুঠুরি, ঢাকা করিডর, ইসলামি বইয়ের সংরক্ষণাগার, পাথরে খোদিত অভিলিখন প্যাভিলিয়ন ও আলোক বুরুজ। মসজিদের আলোক বুরুজ এমন একটি স্থাপনা যা সিলিন্ডারের আকৃতির; এতে পাথর ও চুন-সুরকির নির্মাণকাজ রয়েছে। বুরুজের ভেতরে আছে সিঁড়িপথ। এমন ঘরানার বুরুজ চীনে আর নেই। এ বুরুজের কারণে মসজিদটির অপর নাম আলোক বুরুজ মসজিদ। আলোক বুরুজটি একসময় ঝুজিয়াং নদীতে চলাচলকারী নৌকার জন্য আলোকস্তম্ভ হিসেবে ব্যবহার হতো। হুয়াইশেং মসজিদ এখনো চালু আছে এবং গুয়াংঝৌর মুসলমান জনজীবনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।