বত্রিশ.

কী আশ্চর্যের ব্যাপার, অতগুলো ভারী কলস নিয়ে জিনসাধকের দেখানো পথেই সখিনাবু এগিয়ে যায়।
টলমল পায়ে একুশ পা এসেই পাঁচটি কলস মাটিতে ফেলে দিয়ে সখিনাবু মাটিতে লুটিয়ে পড়ার আগেই একজন মহিলা সখিনাবুকে পাঁজাকোলা করে ধরে ফেলে। আর ঠিক তখনই যেন আকাশ বিদীর্ণ করে চড় চড় শব্দে কোথায় গাছের ডাল ভেঙে পড়ার শব্দ হয়।
জিনসাধকের পিছু পিছু আমরা সবাই সেই শিশুচটকা গাছের সামনে এসে দেখি ঝড়ঝঞ্জা ছাড়াই গাছের একটা ডাল মাটিতে ভেঙে পড়েছে।
জিনসাধক ফিরে এসে আমার দিকে আঙুল দেখিয়ে বলল, ‘এই ছেলের গার্জিয়ান কে? তাকে খবর দাও!’

ভেতরের ঘর থেকে আপদমস্তক পর্দা করা শুধু মুখটুকু খোলা আমার মা বেরিয়ে এসে জিনসাধকের মুখোমুখি দাঁড়ায়। জিনসাধক মাকে মা সম্বোধন করে বললেন, ‘আপনার ছেলেকে নিয়ে কিছু কথা আছে। জনসমক্ষে বলতে চাই না। আপনার বাড়িতে গিয়ে একান্তে বলতে চাই।’
মাও ব্যাপারটা বুঝলেন। কিছু বলার থাকলে গোটা গ্রামের সামনে না বলাই ভালো। মা সম্মানের সাথেই বলল, ‘ঠিক আছে। আপনার এখানকার কাজ শেষ হয়ে গেলে আমার বাড়িতে আসুন। এই পাশের বাড়িটাই আমার। যে কাউকে বললে দেখিয়ে দেবে।’
মা আমাকে নিয়ে হনহন করে কাউকে কিছু না বলে বাড়িতে চলে এলো। আমি নিজেও বুঝতে পারছি না হঠাৎ করে জিনসাধক আমার পেছনে লাগল কেন। (চলবে)