চৌত্রিশ.
মা কী বলতে চাইছে জিনসাধক বুঝতে পেরে সাথে সাথে তল্পিতল্পা গুটিয়ে উঠে দাঁড়ালেন। তার মুখে রাগশোক দ্বেষের লেশমাত্র নেই। তিনি খুব বিনয়ের সাথে বললেন, ‘আপনার ভালোর জন্যই বলছিলাম মা। ছেলে-মেয়ে দুটোকে একটু চোখে চোখে রাইখেন। ওরাই আপনার সম্পদ। সম্পদ যেন অকালে বিনষ্ট না হয়। আর বিপদে কোনো দরকার মনে করলে এই অধমরে স্মরণ করবেন। আপনাদের কোনো উপকারে আসতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে করব।’

জিনসাধক চলে যেতেই পাখিকে দেখলাম, ঠিক জিনসাধক বারান্দার খাটে যেখানে বসেছিল সেখানেই। পা দোলাচ্ছে। চোখে মুখে দুষ্টুমির ভঙ্গি। আমি যে তার সত্য প্রকাশ করে দেইনি সেই মজা লুটছে।
সবুরের চালচলন আচার আচরণে ইদানীং কেমন যেন একটা ছন্নছাড়া ভাব এসেছে। ব্যাপারটা আমার মতো মা আর আপুও লক্ষ্য করেছে। লক্ষ্য করেছে মিনু খালাও। শুধু আব্বা বেশির ভাগ সময় ডাক্তারি চেম্বার নিয়ে থাকে বলে খেয়াল করেননি।
আমি একদিন ঘরের মধ্যে ফিসফিসানি শুনতে পেলাম। মিনুখালা মাকে বলছে, ‘সবাইকে একটু সাবধানে থাকতে কন মা। সবুরের হাবভাব ভালো ঠেকতাছে না।’
মা ব্যাপারটা জানে বলেই বলল, ‘কী করব বুঝতে পারছি না। ধান রোয়ার সময় এসে গেছে এখন ছাড়িয়ে দিতে গেলে ওর আব্বা আমাকে দাবড় দেবে। কারণটা তো খুলে বলতে পারব না। শুধু সন্দেহের বশে কাউকে ছাড়ানো যায়!’
মিনুখালা একটু হাসিঠাট্টার স্বরে বলল, ‘ব্যাটার মধ্যে মানসিক রোগ ঢুকেছে। মানসিক রোগ সর্বনাশা আকার নিলে ভালো না। ওর ওপর খারাপ আত্মও ভর করতে পারে।’ (চলবে)