ঊনপঞ্চাশ
আব্বা রাগত স্বরে বললেন, ‘এসব কথা আমাকে আগে বলিসনি কেন?’
আমি ভয়ে ভয়ে বললাম, ‘ভয়ে!’
জিনসাধক আমার ভয় পাওয়া দেখেই বললেন, ‘বাদ দেন ডাক্তার সাহেব, যা হওয়ার তা হয়ে গেছে, বোতল থেকে বেরিয়ে যাওয়া ওই জিনের সন্ধান আমি পেয়েছি। তখন বুঝতে পারিনি, ওর আগমন কোথা থেকে হলো। এখন বুঝতে পারলাম। চলুন, এখানে আর রাত বাড়িয়ে লাভ নেই।’ তারপর সবুরের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘মাটি দিয়ে গর্তগুলো বুজিয়ে দাও। কবরের গর্তটাও।’
জিনসাধক ঝোলাঝুলি তুলে নিয়ে আব্বার কাছে বিদায় নিতে নিতে বললেন, ‘ওর কয়েকটা দিন স্কুলে বাজারে গিয়ে কাজ নেই। বাড়িতেই থাকুক।’ তারপর ইতস্তত করে বললেন, ‘ওর উপরে আবার আক্রমণ হবে। ঘাবড়ে যাবেন না। সাথে সাথেই আমাকে খবর দেবেন। এখন আপাতত এই তদ্বিরটা রাখুন।’

জিনসাধক আক্রমণের কথা বলেছিল, কিন্তু আমার উপরে আক্রমণটা এত তাড়াতাড়ি আসবে তা আমি বুঝতে পারিনি!
পরদিন স্কুলে না গিয়ে সারাটা দিন বাড়িতেই কাটিয়ে দিলাম। এমনিতে স্কুলে আমার তেমন বন্ধুবান্ধব নেই, স্কুলের প্রতি টানও সে কারণে কম। বরং টো টো কোম্পানি করে ঘুরে বেড়াতে ভালো লাগে। কিন্তু অশুভ আত্মার উপদ্রবে তাও বন্ধ। রাতের অ্যাডভেঞ্চারের কারণে নাকি জিনসাধকের তাবিজের কারণে জানি না, সকাল থেকেই শরীরটা বেশ ঝরঝরে। দিনের আলো ফোটার সাথে সাথে গতকালের সেই ভয়ের অস্তিত্ব আমার মধ্যে নেই। বরং আরো মনে হতে থাকে, এবারে সেই পোড়া ভূতটা এলে ভালো করে দেখব। (চলবে)