বায়ান্ন.
ওরা দেখতে পায় আমার গলায় ফাঁস এঁটে যাওয়ার মতো কালো ছাপ, কালো দাগটা অনেকটা পোড়া কালির দাগের মতো। আপুই প্রথম খেয়াল করে, ‘দেখ মা, কালো দাগটা কেমন যেন মানুষের হাতের আঙুলের দাগের মতো, বসে যাওয়া।’
মা মনে মনে পড়া দোয়া দরূদ আরো জোরে জোরে পড়ে আমার বুকে মুখে ফুঁ দিতে থাকে। আপু ওড়না দিয়ে ডলে ডলে কালো দাগটা ওঠানোর চেষ্টা করে। ওঠে না। তাই দেখে মিনুখালা বলল, ‘পানি দিয়ে ডলে দ্যাখেন আপা। ওঠে কি না?’
ভেজা কাপড়েও যখন কালো দাগ ওঠে না তখন সবাই ভয় পেয়ে যায়। দোয়া দুরূদ পড়া শেষ করে মা জিজ্ঞেস করল, ‘ব্যথা লাগে?’
আমি দু’দিকে মাথা নাড়ালাম।
আপু জিজ্ঞেস করল, ‘কী হয়েছিল? কী দেখে ভয় পেয়েছিলি?’
‘সেই পোড়া ভূতটা। অন্ধকারে আমার গলা চেপে ধরেছিল।’ আগের চেয়ে কথাবার্তা একটু ভালোভাবে বলতে পারছি। গলায় চাপের সেই ব্যথাটা চলে গেছে। ভেজা মাথা নিয়ে বিছানার ওপর উঠে বসলাম। মা আঁচল দিয়ে মাথা মুছিয়ে দিচ্ছিল। ঠিক সেই সময় পুকুরে ডুব করে কী যেন একটা পড়ল।
সবাই ভয়ে কেঁপে উঠল। মা আবার বিড়বিড় করে দোয়া পড়তে লাগল। অন্য সময় হলে ওই শব্দটাকে আমরা ডাবগাছে ইঁদুর ডাব কেটে দিয়েছে, ডাব পড়েছে পুকুরে মনে করে এড়িয়ে যেতাম। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে সেই ডাব পড়া শব্দটাই এখন বেশি ভৌতিক হয়ে উঠেছে। পরিবেশ পরিস্থিতি মানুষের মনকে কতখানি বদলে দেয়! (চলবে)
