(গত দিনের পর)
নাগপুত্র এবার কপাটের এক ফোকর দিয়ে প্রবেশ করে রাক্ষুসীর ঘুমিয়ে থাকা সেই অন্ধকোটা ঘরে। গিয়ে দেখে পালঙ্কে শুয়ে ঘুমিয়ে আছে বৃদ্ধা রাক্ষুসী। সাপ তাকে দেখে বলে, এই ঘুম তোর আর শেষ হবে না কোনো দিন। নাগপুত্র বুড়ির পায়ের কাছে গিয়ে ফণা তোলে। তারপর কষে এক ছোবল মেরে দেয় বুড়ির পায়।
উহ, আহ্ বা কোনো রকমের চিৎকার করারও সুযোগ পেলো না রাক্ষুসী। নাগপুত্রের বিষদাঁতের বিষে মুহূর্তেই নীল হয়ে যায় রাক্ষুসীর দেহ। ভবলীলা তখনি সাঙ্গ তার।
পরদিন সকালে কান্নার রোল পরে যায় রাজপ্রাসাদে। বুড়ি দাদি মা মারা গেছে। সাপের কামড়ে মারা গেছে সে। সকালেই বদ্দি আনা হলো, ওঁঝা ডেকে আনা হলো। ওঁঝা বলল, এ যে নাগরাজের বিষ। এ বিষ নামানোর সাধ্য কারো নেই। বিকেলে কবর দেয়া হলো বুড়ি রাক্ষুসীকে। বিকেল গড়িয়ে রাত নেমে এলো। রাজপুরী এখন নিঝ্ঝুম, শোকে বিহবল। চার দিকে থমথমে ভাব। গভীর রাতে আবার তিন বন্ধু কুকুর, বিড়াল ও নাগপুত্র শলাপরামর্শের জন্য বসে। (চলবে)