জানো, পানির দেশ বাংলাদেশ। তাই এ দেশে সুপ্রাচীনকাল থেকে প্রচলিত রয়েছে হরেক রকম সনাতনী জলবাহন। প্রাচীনকালে সাধারণ মানুষ মোটা কাঠের গুঁড়ি আস্ত খোদাই করে ভেতরে ফাঁকা স্থান সৃষ্টি করে নৌকা বানাত। পঞ্চগড়ে মাটি খুঁড়ে পাওয়া প্রাচীন আমলের তেমনি একটা ৪২ ফুট লম্বা নৌকার নিদর্শন পাওয়া গেছে। পঞ্চগড় রক মিউজিয়ামে সেই নিদর্শন সংরক্ষিত আছে। নৌকার মতো তালের ডোঙ্গাও তেমনি একটি সনাতনী বাহন। তাই বলা যায়, তালের ডোঙ্গা বা কোন্দা এ দেশের নৌকাজাতীয় যানবাহনের মধ্যে সর্বাপেক্ষা আদি রূপ। ঢাকা ও তার পার্শ¦বর্তী এলাকায়, কুমিল্লা ও চাঁদপুরে এটি ‘কোন্দা’ নামে পরিচিত। তালগাছ মাঝামাঝি দু’ ভাগ করে চিরে তার ভেতরের অসার দ্রব্য তুলে গর্ত করে বা খুঁদে খোদাই করে এ বাহন তৈরি করা হয় বলে হয়তো এর নাম কোন্দা রাখা হয়েছে। তবে দক্ষিণাঞ্চলে এটি ‘তালের ডোঙ্গা’ নামেই পরিচিত। তালগাছ থেকে তৈরি ও দেখতে ডিঙ্গি নৌকার মতো বলেই হয়তো একে তালের ডোঙ্গা বলা হয়। কোথাও কোথাও বলা হয় তালের নৌকা।
বর্ষাকালে দেশের নিম্নভূমি, ডোবা, নালা, খাল, বিল যখন পানিতে থইথই করতে থাকে, তখন সেসব জলাভূমিতে যাতায়াত ও মাছ ধরার জন্য কোন্দা বা তালের ডোঙ্গা ব্যবহার করা হয়। একটা তালের ডোঙ্গা সাধারণত ১৫-২০ ফুট লম্বা হয় এবং চওড়া হয় ১-২ ফুট। গাছের গোড়ার দিকটা থাকে গোলাকার ও বদ্ধ, অন্য প্রান্ত থাকে খোলা। তাই চলার সময় সে প্রান্তের মুখ কাদা দিয়ে বন্ধ না করলে পানি উঠে কোন্দা ডুবে যেতে পারে। এক-দু’জনের বেশি সাধারণত একটা তালের ডোঙ্গায় ওঠা হয় না। বৈঠা নয়, একটা লম্বা চিকন শক্ত বাঁশের টুকরো দিয়ে পানির মধ্যে ঠেলে ঠেলে তালের ডোঙ্গা চালানো হয়। ছবি সংগ্রহ