চৌদ্দ.

‘ওইটা ওষুধের দোষ না। মাথায় ভূত লোগছে। ভূত তাড়ান। ডাক্তারে কাজ হবে না। ভূতের ওঝার কাছে যান।’
‘ধুর মিয়া, কি যে বলেন না ছাই।’
‘থাকেন আপনি আপনার ভূত নিয়ে। আমি গেলাম। এক মক্কেল আসবে। আরেকজনের জমি ভুয়া রেজিস্ট্রি করে গছিয়ে দিতে হবে।’ আব্বাছ খাঁ উঠে পড়লেন।

আব্বাছ খাঁ উঠতেই টাভু বেরিয়ে পড়ল আব্বাছ খাঁর ভেতর থেকে। গাভু গাভু বলে কয়েকবার চিৎকার করে ডাক পাড়ল। সেই ডাকে শারাফাত আলী চমকে উঠল। মনে হয় কে যেন তাকে ডাকছে। গাভুও ডাক শুনতে পেয়েছে। সেও বেরিয়ে পড়ল শারাফাত আলীর শরীর ছেড়ে।
গাভু টাভুর কাছে এসে বলল, ‘কিরে ডাকছিস কেন?
‘এমনি। তোর সাথে দেখা হয় না। মানুষের শরীরে ঢুকে আর বেরুনোর নাম নেই।’
‘মানুষের শরীরে হ্যাভী মজা। মজা আর মজা।’
‘কেন যখন মানুষ ছিলি তখন মজা পাস নাই?’
‘ধুর, তখন নানান চিন্তা, নানান কাজ। মজা ছিল কোথায়? ভূতে মজা। ভূত হয়ে মানুষে ঢুকে মজা। মানুষের মাথায় বসে কাজ করে আরো মজা।’
‘তুই তাহলে ওই আকাম করেছিস। তাই তো বলি। আমি তো এতক্ষণ ধরতেই পারছিলাম না।’
‘কী আকাম?’
‘ঘুষের কারবার...’
‘তুই ওটারে আকাম বলছিস। একটা ভালো কাজ করলাম। রিকশাওয়ালা বেচারা! আসল টাকাই দিতে পারে না আবার সুদের টাকা! (চলবে)