উনিশ.

আব্বাছ খাঁ সবসময় লেট কামার। আরো দুটো জালিয়াতির কেস ছাড়িয়ে চার লাখ টাকা লস দিয়ে ভূতের ওঝার কাছে এলেন আব্বাছ খাঁ। তখন মাঝরাত। ভূতের ওঝা ভূতেদের নিয়ে ব্যস্ত।
আব্বাছ খাঁকে দেখেই ওঝা খেঁকিয়ে উঠল, ‘মাঝরাতে এসেছিস কেন?’
‘সময় পাইনি? কাজ ছিল।’
‘কী কাজ? ভূতের বেগার খাটা?’
আব্বাছ খাঁর মতো সাহসী লোকও মাথা নিচু করে ফেললেন। ভূতের ওঝা ঠিক ধরে ফেলেছে। ভূতের বেগার খাটতে গিয়ে সে আজ ফতুর হওয়ার জোগাড়। ‘জ্বি জনাব।’
‘এখন কি করতে চাস?’
‘আর ভূতের বেগার খাটতে চাই না জনাব। ভূতের বেগার খাটতে খাটতে সর্বস্বান্ত হয়ে গেলাম।’
‘ঠিক আছে। আর ভূতের বেগার খাটতে হবে না। এখন থেকে মানুষের বেগার খাটবি।’
‘ জনাব ঘাড়ের থেকে ভূত নামান।’
ওঝা গম্ভীর স্বরে বলল, ‘হু। নামাব। কিন্তু অনেক খরচাপাতি হবে।’
আব্বাছ খাঁ ইতস্তত করে বলল, ‘কত?’
‘জমির দালালি করে তিন কাঠা জমি বাগিয়েছিস না?’
‘আপনি সবই জানেন জনাব।’
‘ওই তিন কাঠা আমার নামে লিখে দিতে হবে। তবে ভূত তাড়ানো শুরু করব।’
আঁতকে উঠলেন আব্বাছ খাঁ। ‘তাহলে তো আমাকে পথে বসতে হবে। ওইটুকুই শেষ সম্বল।’
ওঝা হেসে উঠল। ‘ওটা আমাকে না দিলেও তোকে ও জমি হারাতে হবে। ভূতেই ছাড়িয়ে নেবে। তার পরও ভূত তোর ঘাড়ে থেকে যাবে। তোকে কোনো মন্দ কাজই করতে দেবে না। ওর চেয়ে আমাকে দে।
(চলবে)