ইবান জনগোষ্ঠীর কথা বলছি। এদের বসবাস বোর্নিও দ্বীপে। দ্বীপটি মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ব্রুনেইয়ের মধ্যে বিভাজিত। মোট ইবান জনসংখ্যা প্রায় ১৩লাখ। প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার বাস করে দ্বীপটির মালয়েশীয় প্রদেশ সারাওয়াকে। বাকিদের বসবাস ব্রুনেই ও ইন্দোনেশীয় প্রদেশ পশ্চিম কালিমান্তানে।
ইবানরা কথা বলে ইবান ভাষায়। এটি অস্ট্রোনেশীয় ভাষা পরিবারের মালায়ো-পলিনেশীয় ভাষা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। ইবান ভাষার সাথে মালয় ভাষার সাদৃশ্য রয়েছে।
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের যুগে ইবান নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী সাগর দায়াক নামে পরিচিত ছিল। পরে এরা ইবান নামে পরিচিতি পায়। ‘ইবান’ ইবান ভাষার একটি আদি শব্দ, যার অর্থ মানুষ বা জনতা।
এ নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর মানুষের সাথে কান্তু, মুলাং, সেম্বেরুয়াং, বুগাউ ও সেবারু নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর মানুষের সাদৃশ্য দেখা যায়।
এক সময় ইবান জনগোষ্ঠীর বেশির ভাগ মানুষ সর্বপ্রাণবাদে বিশ্বাস করত। এটিই ছিল এদের ঐতিহ্যবাহী ধর্ম। বর্তমানে বেশির ভাগ ইবান খ্রিষ্টধর্মে বিশ্বাস করে।
বর্ণিল পোশাকের প্রতি ইবান নারীদের ঝোঁক আছে। এরা সুতা কাটা ও কাপড় বুননে দক্ষ।
ইবানরা ভাত, গোশত ও মাছ খেতে পছন্দ করে।
এ জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী ঘরকে বলে ‘লম্বাঘর’। এটি এককক্ষবিশিষ্ট সঙ্কীর্ণ ঘর। কাঠ, বাঁশ ইত্যাদি দিয়ে এ ঘর তৈরি করা হয়।