বাইশ.

তিনি গুটলুর পাশে এসে বসলেন।
কী করা যায় বুঝতে পারছেন না। আব্বাছ খাঁর ব্যাগে সবসময় ছোট্ট পানির বোতল থাকে। তিনি ব্যাগ থেকে পানির বোতল বের করলেন। গুটলুর চোখেমুখে পানির ছিটিয়ে দিলেন। গুটলুর জ্ঞান ফিরে এলো। সে চোখ মেলে চোখ পিটপিট করে তাকাল। আব্বাছ খাঁ গুটলুর চোখে মোবাইলের আলো ফেলে বললেন, ‘তুমি কে? আমার পেছনে এসেছিলে কেন? আর ওভাবে পড়ে গেলে কেন?’
গুটলু কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল। কিন্তু তার আগে সে টাভু ভূতকে দেখতে পেল। আব্বাছ খাঁর শরীর এখন নিরাপদ দেখে টাভু আবার শরীরের ভেতরে ঢোকার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তার আগে সে আব্বাছ খাঁর পিছন থেকে একবার গুটলুর দিকে তাকাল।
গুটলু টাভুকে দেখে গো গো করে গুটিয়ে গিয়ে বলল, ‘ভূ-উ-উ-উ-ত, ভূ-উ-উ-উউ-ত!’

কোনো একটা ভৌতিক ব্যাপারস্যাপার যে ঘটছে তা আব্বাছ খাঁ আগে থেকেই সন্দেহ করছিলেন। গুটলুর ভূত দেখার পর থেকে তার কাছে সন্দেহটা সত্যি বলে মনে হচ্ছে। ওইদিন রাতে হতভম্ব গুটলুকে সে নিজের সাথে করে বাড়িতে নিয়ে এসেছিল। সেখানেই গুটলুর মুখে শুনেছিল সব কথা। মক্কেল মোখলেছের জমি হাতছাড়া হয়ে যাওয়ায় সে-ই গুটলুকে লেলিয়ে দিয়েছিল। গুটলুও তার কাজ ঠিকঠাকভাবে করতে গিয়েছিল। কিন্তু তখনই হঠাৎ আব্বাছ খাঁর ভেতর থেকে ইয়া মোটা দৈত্যের মতো একটা ভূত বের হয়ে এসে গুটলুকে তাড়া করে। সে ভয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়।
(চলবে)