বেলুন মাছের কথা বলছি। প্রকৃতির অপার বিস্ময় এ বেলুন মাছ। ফোলানো বৈশিষ্ট্য আর সৌন্দর্যের কারণে বিশ্বের কিছু অঞ্চলে বেলুন মাছ পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। অনেক পর্যটক এ মাছ ক্রয় করেন। অ্যাকুরিয়াম ব্যবসায়ও এদের জনপ্রিয়তা অনেক।
বেলুন ডায়োডোনটিডি পরিবারভুক্ত সামুদ্রিক মাছ। এরা দেহের মধ্যে পানি ঢুকিয়ে দেহকে বেলুনের মতো ফুলিয়ে ফেলতে পারে বলেই সম্ভবত এদের নাম বেলুন মাছ।
পশ্চিম আটলান্টিক মহাসাগর থেকে শুরু করে ফ্লোরিডা, বাহামা, ব্রাজিলের দক্ষিণাংশসহ পৃথিবীর প্রায় সব সাগরেই এদের পাওয়া যায়। সমুদ্র-তলদেশের শৈলশ্রেণীতে এদের বসবাস। পানির উপরিভাগ থেকে ছয় থেকে ৩৫ ফুট গভীরতায় এরা চলাফেরা করে। বেলুন মাছের দেহের দৈর্ঘ্য আট থেকে ১৮ ইঞ্চি। দেহে লম্বা তীক্ষè কাঁটা রয়েছে। এরা যখন দেহকে ফুলিয়ে রাখে তখন এ কাঁটাগুলো খাড়া হয়ে থাকে। এদের চোখের উপরে ও নিচে বাদামি রেখা রয়েছে। পুচ্ছ, পৃষ্ঠ ও বক্ষ-পাখনার মাধ্যমে এরা প্রবালের মধ্য দিয়ে ধীরগতিতে চলতে পারে।
হুমকির মুখে পড়লে অথবা ভয় পেলে বেলুন মাছ এদের দেহের ভেতরে পানি ঢুকিয়ে দেহকে বেলুনের মতো ফুলিয়ে ফেলে। এ সময় এদের তীক্ষè লম্বা কাঁটাগুলো শজারুর কাঁটার মতো খাড়া হয়ে থাকে। দেহের এ অবস্থা দেখে তখন সম্ভাব্য শত্রু ভয়ে পালিয়ে যায়। এ ছাড়া উত্তেজিত হলে এরা গায়ের রঙও পরিবর্তন করতে পারে।
বেলুন মাছ নিশাচর শিকারি। দিনের বেলায় প্রবালের ফাঁকে লুকিয়ে থাকে। এরা এদের দাঁতগুলোকে একত্র করে মুখকে ঠোঁটের মতো করে শামুক, সামুদ্রিক আর্চিন ও হার্মিট কাঁকড়ার খোলক ফাটিয়ে ফেলতে পারে। শামুক, সামুদ্রিক আর্চিন, কাঁকড়াই এদের খাবার। পেলাজিক অঞ্চলের বিভিন্ন শিকারি মাছ, ডলফিন ও হাঙর এদের প্রধান শত্রু।
বেলুন মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Diodon holocanthus.
বেলুন মাছের কথা বলছি। প্রকৃতির অপার বিস্ময় এ বেলুন মাছ। ফোলানো বৈশিষ্ট্য আর সৌন্দর্যের কারণে বিশ্বের কিছু অঞ্চলে বেলুন মাছ পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। অনেক পর্যটক...
